গভীর নিম্নচাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ১৭:৫৪ পিএম
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নদীপথ উত্তাল থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় নৌপথসহ অভ্যন্তরীণ নৌপথসমূহ উত্তাল রয়েছে। সেজন্য যাত্রী সাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটির অগ্রভাগ আজ বেলা ৩টায় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। তার মূল অংশ বেলা সাড়ে ৩টা থেকে উপকূল অতিক্রম করছে। এর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।
গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অমাবস্যা ও গভীর নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চর ২ থেকে ৪ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। তখন ঝোড়ো হাওয়াও থাকতে পারে।
মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়, যা পরে আরো ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপে পরিণত হয়। পরে সেটি পরিণত হয় গভীর নিম্নচাপে।