প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৫ ২০:১৯ পিএম
সরকার প্রয়োজনীয় কাজ না করে অন্যদিকে গিয়ে জটিলতা তৈরি করে মান-অভিমান করছে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘এটা কোনো গ্রহণযোগ্য পথ না।’
শুক্রবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক নাগরিক কমিটির ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বৈষম্যহীন বাংলাদেশে অগ্রসর হওয়ার জন্য জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা, কৃষি–শিল্পের ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা এবং জনগণের জন্য পরিবেশবান্ধব যে পথ, সেই পথটাই যাতে শক্তিশালী হয়, সেটার জন্য প্রয়োজনীয় মতাদর্শিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা সরকার সেই কাজটা করবে। সেই কাজের দিকে না গিয়ে, অন্যদিকে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে, তারপর মান–অভিমান করা, এটা তো কোনো গ্রহণযোগ্য পথ না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রম কম করছে না। অর্থ ও শিল্প উভয় খাতে সম্পদ তৈরি করছে। সমস্যাটা হচ্ছে সম্পদটা পুঞ্জীভূত হচ্ছে। তারা আবার সম্পদটা বিদেশে পাচার করছে। এই পথ তৈরি হয়েছে জনপ্রশাসনে অতিরিক্ত খরচ, ভর্তুকি ইত্যাদির মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাতকে এমনভাবে দাড় করানো হয়েছে যেন অর্থ বাইরে পাচার করা যায়।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সম্পদের ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার পর। সরকারের এটা প্রতিশ্রুতির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের দিকে না গিয়ে বিদেশি কোম্পানি, বিদেশি বিনিয়োগ, স্টারলিংক, এলএনজি আমদানি—এসব দিকে মনোযোগ দেওয়া তো এই সরকারের দায়িত্ব না।’
আলোচনায় থাকা বন্দর ও করিডর ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়া, করিডোর চালু করা, স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি এসবকে জাতীয় সক্ষমতার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ এসবের চেয়ে বেশি প্রয়োজন, নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলা।’
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক এই অ্যধাপক বলেন, ‘এই খাতে বাংলাদেশে বাজেট বরাদ্দ সবচেয়ে কম। এখানে বরাদ্দ বাড়ালে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে জনগণ উপকৃত হবে।’
‘জাতীয় সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রেখে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় সক্ষমতা গড়তে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থান বদলাতে হবে,’ যোগ করেন আনু মুহাম্মদ।