× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্রীষ্মে দুর্লভ ফুলে সুশোভিত বেরোবি

এহসানুল হক সুমন, রংপুর

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৫ ১৩:১৮ পিএম

গ্রীষ্মে দুর্লভ ফুলে  সুশোভিত বেরোবি

গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে বাতাসে দোল খাচ্ছে পাঁচ পাপড়ির পালাম ফুল। গাছভর্তি খয়েরি রঙের এ ফুল গ্রীষ্মের শোভা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। থোকা থোকা সাদা গোলাপি লাল সোনাইল মেলে ধরেছে তাদের রূপ। সবুজ পাতা ছাপিয়ে কুরচিও ছড়াচ্ছে তার সৌন্দর্য। পাতাবাহার না হয়েও একই গাছে হলুদ, লাল, সবুজ পাতার বাহার সমুদ্র জবাগাছে। গাছভর্তি সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সাদা রঙের চায়না ডল। গ্রীষ্মের প্রকৃতি রাঙ্গাতে ফোটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বান্দর হুলা। হলুদ গ্লাউকা কেসিয়াও ফুটতে শুরু করেছে। গ্রীষ্মের জারুল, সোনালি, কৃষ্ণচূড়ার সঙ্গে দুর্লভ এসব ফুল সুশোভিত করেছে বৃক্ষের জাদুঘরে পরিণত হওয়া রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে।

তাপদাহের মাঝে গাছগাছালিতে ভরা সবুজ ক্যাম্পাসের শীতল ছায়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে বৃক্ষপ্রেমীরা এসে এসব ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সঙ্গে যুক্ত কৃষ্ণচূড়া সড়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরই চোখে পড়বে লাল লাল কৃষ্ণচূড়া। শহীদ মিনার মাঠে সড়কে পাশে থাকা পালামে এবার গত বছরের চেয়ে বেশি ফুল এসেছে। ওই মাঠে পরিণত গাছে ডালজুড়ে থোকা থোকা লাল সোনাইল নজরকাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। এ বছর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটেছে মাধবীলতা, উদাল, ডম্বিয়া, গ্লিরিসিডিয়া, ছদ্মশিমুল। এ ছাড়া জিলাপি, মণিমালা, নীলমণিলতা, সোনাপাতি গাছেও ফুটেছে ফুল।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী অনন্যা চৌধুরী বলেন, আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান, না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ। ২০০৮ সালে এই ক্যাম্পাস ছিল মরুময়। এখন ক্যাম্পাসে রবীন্দ্রনাথের কবিতার মতো যেন প্রাণের সুর জেগেছে। দেশে বসন্ত দুই মাস থাকলেও আমাদের ক্যাম্পাসে সারা বছরই বসন্ত থাকে। নানা রঙের ফুল ফোটে।

শিক্ষার্থী মেজবাহুন নাহার বলেন, ৭৫ একরের ক্যাম্পাসে আমাদের অনেক মায়া। ফুল আছে, পাখির কলতান আছে। আমরা হল থেকে বের হয়ে ফুল, বৈচিত্র্যপূর্ণ গাছের সৌন্দর্য উপভোগ করি। ক্যাম্পাসের আয়তন কম হলেও গাছগাছালির সমৃদ্ধ ভান্ডার রয়েছে। গ্রীষ্মে দুর্লভ ফুলের দর্শন যেন হৃদয়ে প্রশান্তি আনছে।

কবি-সাহিত্যিক ও লেখক রানা মাসুদ বলেন, ঋতুচক্রের সঙ্গে প্রকৃতির যে পরিবর্তন ঘটে, তা উপভোগ করা যায় বেরোবি ক্যাম্পাসে। এখানে ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গাছ-পাতার রঙের পরিবর্তন হয়। এ ক্যাম্পাসে আমরা দুর্লভ প্রজাতির ফুল দেখতে পাচ্ছি। যা সারা বাংলাদেশ ঘুরেও দেখা সম্ভব নয়। এই প্রকৃতি, দুর্লভ বৃক্ষের সঙ্গে আমাদের আগামী প্রজন্মকে পরিচিত করে তুলতে হবে; যাতে তাদের প্রকৃতির প্রতি একটি মহব্বত তৈরি হয়। সে যেন সুন্দর, সবুজ-শ্যামল পৃথিবী চিন্তা করে। যেখানে মুক্ত হৃদয়ে আমরা সবাই শ্বাস নিতে পারব।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খাইরুল ইসলাম বলেন, সারা বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীরা নানা ধরনের ফুলের সমারোহ দেখতে পায়। গ্রীষ্মে নানা প্রজাতির ফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা চাই, দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষগুলো আরও অনুকূল পরিবেশে বেড়ে উঠুক। এটি নিশ্চিত হলে আমরা বৈচিত্র্যপূর্ণ বৃক্ষের রূপ উপভোগ করতে পারব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষ বন্ধু অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মরুময় এ ক্যাম্পাসকে আমরা সবুজে সাজিয়েছি। এখানে ৪ শতাধিক প্রজাতির গাছ রয়েছে। সারা বছরই ক্যাম্পাসে কোনো না কোনো দুর্লভ ফুল ফোটে। আমি মনে করি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুসরণ করে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি সব প্রজাতির দুটি করে গাছের চারা রোপণ করে, তাহলে বৃক্ষ প্রজাতি বেঁচে থাকবে এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ বৃক্ষের ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 




শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা