× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুঁটকিতে কীটনাশকের ব্যবহার, তবে ৮৭ শতাংশ নিরাপদ: গবেষণা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৫ ১৮:৩৮ পিএম

আলোচনায় বক্তারা। প্রবা ফটো

আলোচনায় বক্তারা। প্রবা ফটো

দেশে উৎপাদিত শুঁটকিতে ১৩ শতাংশ কীটনাশক ব্যবহারের চিত্র পাওয়া গেছে। খাবারে ক্ষেত্রে তা ৮৭ শতাংশ নিরাপদ।

দেশে শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি উৎপাদন হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও দুবলার চরে এবং স্বাদু পানির মাছের শুঁটকি উৎপাদন হয় নাটোরের চলনবিল ও সুনামগঞ্জে। এসব স্থানের উৎপাদিত শুঁটকি নিয়ে করা একটি গবেষণায় এ চিত্র উঠে আসে।  গবেষণায় দেখা গেছে, এসব শুঁটকিতে গড়ে ১৩ শতাংশ কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। তবে তা রান্না করার পর মাত্রা আরো কমে যায়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) আয়োজিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর শাহবাগে নিজ কার্যালয়ে সেমিনারটির আয়োজন করে বিএফএসএ।

বিএফএসএর জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম, প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার কেমেস্ট্রির অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো. নাজমুল ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএফএসএ'র সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।

জাকারিয়া বলেন, ২০২২-২৩ সালের ৭টি গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, তার মধ্যে এটি একটি।

জাকারিয়া বলেন, এখানে গবেষণার যেসব ফলাফল প্রকাশিত হয় তা গবেষকের নিজস্ব বিষয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায় নেই। আর এটি দেশের সার্বিক চিত্রও নয়, বরং সামান্য বিষয়। আমরা স্বল্প পরিসরে গবেষণা করি। সেখানে খারাপের মাত্রা বেশি পাওয়া গেলে বড় আকারে গবেষণার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে নির্দিষ্ট স্টেকহোল্ডারদেরকে।

তিনি আরও বলেন, শুঁটকিতে কীটনাশক দিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

ভেজালের সংজ্ঞা নির্ধারণের ব্যাপারে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অনেক কিছু সামাজিকভাবে অনিয়ম ও ভেজাল। সেটি প্রকৃত অর্থে কোন ভেজাল নেই। তাই কোনটা ভেজাল তা নির্ধারণ করতে হবে। শুঁটকিতে কীটনাশক ব্যবহারকে ভেজাল হিসেবে গণ্য করা হবে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, শুঁটকি মাছে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি ব্রাসেল কনভেনশনে ১০টি কীটনাশক নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। তার মধ্য বাংলাদেশে দুটি কীটনাশক ব্যবহার হয়।

ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রোটিনের ৬০ ভাগ আসে মাছ ও মাংস থেকে।

তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ শুঁটকি উৎপাদনকারী অশিক্ষিত হওয়ায় সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারে না। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুঁটকি তৈরি হয়। তখন রোদ না থাকলে কীটনাশকের ব্যবহার করা হয়।  বিশ্বে শুঁটকি খাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। সূর্যের আলো ব্যবহার করে শুঁটকি তৈরিতে বেশিরভাগ কীটনাশক ব্যবহার হয়।

তিনি আরও বলেন, গবেষণায় ২৬০টি সেম্পল নেওয়া হয়েছে। তাতে ১৩ শতাংশের মধ্যে কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কোন অঞ্চলের মানুষ দৈনিক কী পরিমাণ শুঁটকি খায় সে সম্পর্কে তিনি বলেন, কক্সবাজারের মানুষ ১৫.৭২, চট্টগ্রামে ১৪.৪৮, সুনামগঞ্জে ৭.৮৪, চলনবিলে ৯.৫৬ ও ডুবলার চরে ১২.২২ শতাংশ মানুষ শুঁটকি খায়।

শুঁটকি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ডুবলার, সুনামগঞ্জ ও চলনবিলের  শুটকিতে এনডোসালফান সালফেটের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে।  তাছাড়া ডেলড্রিন, হেপটাচলোর ইপোক্সিসাইট ও বেটা এনডোসালফানের ব্যবহার কম পাওয়া গেছে।

ড. মো. নাজমুল বারি বলেন, সব জায়গায় পলিথিন ব্যবহার হচ্ছে। তাই আগামী গবেষণাগুলোতে মাইক্রো প্লাস্টিকের বিষয়টি থাকতে হবে। সূর্যের আলো ব্যবহার না করে বরং মেকানিক্যাল ড্রায়িং করার আহ্বান জানান তিনি।

শুঁটকি কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বা লবণ দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে ক্ষতিকর দিকটি কেটে যায় বলে জানান বক্তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা