× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর উত্তমপন্থা ঘরে অবস্থান

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৫ ১৯:৩২ পিএম

বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর উত্তমপন্থা ঘরে অবস্থান

বজ্রপাতের কারণে দেশে প্রতিবছর ২৫০ থেকে ৩০০ জন মানুষের প্রাণহানী হচ্ছে। তা ছাড়া দেশে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যত মানুষ মারা যায় তারমধ্যে শীর্ষে রয়েছে  বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা। এ অবস্থায় মৃত্যু কমানোর সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে বজ্রপাতের সময়ে ঘরে অবস্থান করা।  'স্টেনথেনিং ডিসিমিনেশন অব লাইটিনিং অ্যালার্টস থ্রোট ম্যাস মিডিয়া' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাজধানীর  আগারগাঁওস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সম্মেলনে কক্ষে আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) ও রিজিওনাল ইন্টিগ্রিটেড মাল্টি-হেজার্ড আর্লি ওর্য়ানিং সিস্টেমের (রাইমস) উদ্যোগে গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।  রাইমসের সামিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক মহাশাখার উপপরিচালক ড. মো. শামীম হাসান ভুঁইয়া, ঝড়সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক এস এম কামরুল হাসান, আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক ও মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাইমসের খান মো. গোলাম রব্বানী। 

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যত মানুষের মৃত্যু হয় তারমধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বজ্রপাতে মৃত্যু। বছরে এই মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০-৩০০ ছাড়িয়ে যায়। আমরা এসব মৃত্যু সংখ্যা কমিয়ে আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

ঢাকা শহরে বজ্রপাত হলেও মৃত্যু কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে ড. মো. শামীম হাসান ভুঁইয়া বলেন, ঢাকায় বজ্রপাত হলেও মৃত্যুর হার কম বা নেই বললেই চলে। এর কারণ হচ্ছে বেশকিছু উঁচু ভবনে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম হচ্ছে প্রতিটি বহুতল ভবনে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা রাখতে হবে কিন্তু আমরা সেই বিল্ডিং কোড মেনে চলছি না। এটি মেনে চললে মৃত্যুর সংখ্যা আরো কমিয়ে আনা যায়।

এদিকে ব্রিটিশদের বসানো মৌজাভিত্তিক পিলারকে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা বলা হলেও এটি ঠিক না। এস এম কামরুল হাসান বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষকে বজ্রপাত থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হতে পারে সাইলেনের ব্যবহার করা। 

মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, 'বজ্রধ্বনি শুনবেন যখনই, ঘরে ফিরবেন তখনই' স্লোগানে বিএমডি ও রাইমস চলতে মাস থেকে বজ্রপাতে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ এনিমেশন ভিডিও প্রচার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব তথ্য নিয়ে গণমাধ্যম তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরি করলে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া অধিকাংশ মানুষ কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির। কেননা কৃষক মাঠে কাজ করার সময় নিরাপদ আশ্রয়ে না যেতে পারায় মৃত্যুর মুখে পড়ে।

খান মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ১৯৭০-২০২৪ সাল পর্যন্ত দেড় ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। তাপমাত্রা ১ ভাগ বাড়লে বজ্রপাতের সংখ্যা ১০ ভাগ বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতেএরোস্টার স্থাপন করলে শুধু নির্দিষ্ট স্থানটিকে রক্ষা করতে পারে। তাই বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার উত্তমপথ নিজ ঘরে (কনক্রিটের ঘর) অবস্থান করা। বিদ্যুৎ চমকানোর সর্বশেষ শব্দ শোনার ৩০ মিনিট পর্যন্ত নিরাপদ সময়। এর মধ্যে কেউ ঘর বা নিরাপদ স্থানে চলে আসলে বজ্রাঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আর ঘরের বাইরে একসঙ্গে অধিক মানুষের একসঙ্গে থাকা যাবে না। 

বজ্রপাতের বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যায় না কেন সম্পর্কে তিনি বলেন, কখন, কোন সময় ও স্থানে বজ্রপাত হবে তা নির্ধারিত নয় বলে এটির বৈদ্যুতিক শক্তি সংরক্ষণ করা যায় না। 

তিনি বলেন, এপ্রিলে-মে মাসে বেশি বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের ৩৩ শতাংশ মাটিতে চলে আসে। বাকীটা আকাশে হয়ে থাকে। পূর্বাভাস সম্পর্কে বলেন, বজ্রপাতের বিষয়ে বিশ্বের কোথাও দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস পদ্ধতি নেই। এটি কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া সম্ভব। বাঁচার উপায় সম্পর্কে বলেন, ঘরই সর্বোচ্চ নিরাপদ। 

ভুল ধারণা সম্পর্কে বলেন, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির দেহে কোন চুম্বক তৈরি হয় না। অথচ চুম্বকের কথা অনেক মৃতদেহ চুরি হওয়ার নজির রয়েছে। তিনি বলেন, বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। কেননা  বজ্রপাতে মৃত্যুর ২৩ শতাংশ গাছের নিচে থাকার কারণে হয়ে থাকে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা