× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভোটের আগে মসজিদ গড়ার তাড়া

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:৫৪ এএম

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৪১ পিএম

মডেল মসজিদ। সংগৃহীত ছবি

মডেল মসজিদ। সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন নির্ধারণ করা হয়। পরে বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। তবে এখনও ২২৪টি মসজিদের কাজই শুরু হয়নি। প্রকল্পটি ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক সংসদ সদস্য। নির্বাচনের আগে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চান তারা। এখনও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক সংসদ সদস্য।

এই মডেল মসজিদ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। প্রতি জেলা, উপজেলা এবং উপকূল এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সৌদি আরবের অর্থায়নে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তবে সৌদি আরবের কাছ থেকে কোনো অর্থ পাওয়া না গেলেও সরকার নিজের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করে। 

সৌদি আরব অর্থ না দিলেও (এখন পর্যন্ত) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এর আগে এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে জনতুষ্টির জন্য জনপ্রিয় প্রকল্পে সরকার অর্থায়ন করতে চায়। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রত্যেক সরকারের একটা প্রবণতা থাকে জনপ্রিয় কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়ার, যাতে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। সে কারণে জাতীয় বাজেটেও এমন কিছু প্রকল্প থাকে যেগুলো হয়তো খুব বেশি প্রয়োজনীয় না, কিন্তু তাতে বরাদ্দ থাকে। এটিও তেমন একটি প্রকল্প বলেই মনে হয়।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫১৯টি স্থানে দরপত্রের পর ৫১৬টিতে কার্যাদেশ দিয়েছেন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রথমে ২০২১ সালের ১০ জুন ৫০টির উদ্বোধন হয় এবং কাজ চলমান রয়েছে ২৮৬টির। তবে বাকি ২২৪টি মসজিদের কাজ শুরু হয়নি। রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় মনে করায় এ প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ন চান সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যরা। এ প্রকল্পটি ভোটের রাজনীতির ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচার হিসেবে দেখাতে চান তারা। 

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল মসজিদ নির্মাণে দেরি হওয়ার কারণে সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও কাহারোল। এ দুটি উপজেলায় চার বছর আগে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই মসজিদ নির্মাণের কাজটি দৃশ্যমান হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। একইভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীসহ আরও ৯ জন সদস্য তাদের নির্বাচনী এলাকায় মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরুর জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। নির্মাণকাজে দেরি হওয়ার জন্য যথাসময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জাানা গেছে, ২২৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণে অন্যতম বাধা স্থান নির্বাচন। কিছু কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চান। দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় স্থান নির্বাচন নিয়ে নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। স্থানীয় নেতাদের চাওয়াপাওয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি। তবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় চায় স্থাপনাটি এমন স্থানে তৈরি হোক, যার সুফল যতটা সম্ভব বেশি মানুষ পায়। তারা সব পক্ষকে একত্র করে একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে এটি নির্মাণের পক্ষে। 

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দুই পক্ষ চাইছে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক। একই ধরনের সমস্যা রয়েছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। এই নির্বাচনী এলাকায় আগে যিনি সংসদ সদস্য ছিলেন তার পছন্দের স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ হয়েছিল। এ জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ দরপত্রও আহ্বান করা হয়। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যের ওই স্থানটি পছন্দ নয়। তিনি অন্য একটি স্থানে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন চান। তাই আগের সিদ্ধান্তটি বদলানোর জন্য সুপারিশ করেছেন তিনি। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সংসদ সদস্যের পছন্দের জায়গায় মসজিদটি নির্মাণে সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য সুপারিশও করেন বলে সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নানা কারণে কিছু কিছু উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করছে। তারা শিগগিরই প্রতিবেদন দেবে। এরপর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এ প্রকল্প যাতে যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় সেজন্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 

শুরুতে মডেল মসজিদ তৈরির এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা, এর মধ্যে সৌদি সরকারের অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ২৬ জুন একনেকে সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার বেশি। এর পুরো ব্যয়ই সরকার বহন করছে। এটি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন করছে।

২০১৪ সালে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরের সময় তার সঙ্গে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে সম্মত হয় দেশটি। ২০১৭ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছিল। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা