প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:৪১ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:৪৪ পিএম
‘আমাদের সাফ কথা, এই নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনকে আমরা মানি না’ — এমন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই সংস্কার কমিশন জাতির চিন্তা, চেতনা ও আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তারা প্রত্যাখ্যাত বলে ঘোষণা করছি। সংস্কার কমিশনকেই আমরা প্রত্যাখান করছি, তারা প্রত্যাখাত মানে তাদের রিপোর্টও প্রত্যাখ্যাত।’
বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘নারী সংস্কার কমিশনের ইসলামফোবিয়া ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংস্কার কমিশন নারী সমাজের প্রতিনিধিত্বের কথা বলে সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। তারা কুরআনের আয়াত পরিবর্তনের দুঃসাহস ও উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে এই উসকানি কেন? এই সরকারের তো এই এজেন্ডা হওয়ার কথা না। আরো বহু বিষয় আছে। সেগুলোর কূলকিনারা নেই। কোরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—তাই এটা টিকবে না, ভেসে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিবাহিত জীবনে রেপের প্রশ্ন আসবে কেন? এর মাধ্যমে আদালতে ভিড় বাড়ানো হবে। এরা সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায়। নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে হলে এ দেশের বেশিরভাগ মানুষের বিশ্বাসকে যারা ধারণ করে তাদেরকে প্রাধান্য দিয়েই কমিশন গঠন করতে হবে। এই কমিশনে দুঃখজনকভাবে একজনকেও রাখা হয়নি। আমরা আন্দোলনে যেতে চাই না, কিন্তু বাধ্য করা হলে রাস্তায় নামতে পিছপা হব না।’
‘সরকার ৫ মিনিটও সময় পাবে না’
সেমিনারে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, ‘আপনারা নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন করে নারী নীতিকে বাহবা দিচ্ছেন। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা কিন্তু এমনিতেই জনগণের ভোটের সরকার নন। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকার যদি এগিয়ে যায় তাহলে ৫ মিনিটও সময় পাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হয়তোবা এই নারী কমিশনের মাধ্যমে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে। এরপর যখন ওলামায়ে কেরাম রাস্তায় নামবে, তখন হয়তো এই ঘাপটি মারা দেশের শত্রুরা এই সুযোগে রাস্তায় নামার জন্য; এমন নীলনকশা তৈরি করতে পারে।’
বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ইসলাম নারীকে ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। নারীকে সমান অধিকার নয়, ন্যায্য অধিকার দিন। কারণ নারী সমান অধিকার পেলে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। আমাদের পরিষ্কার আহ্বান নারীকে পতিতাবৃত্তির দিকে ঠেলে দিয়ে মাতৃসমাজের কলঙ্ক বানাবেন না। এ ধরনের সমাজকে ধ্বংস করার, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার অপতৎপরতা বন্ধ করেন।’
সেমিনার থেকে চারদফা দাবি পেশ করা হয়। এগুলো হলো- নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহার, কমিশন বাতিল, নতুন কমিশন গঠনে দীনদার, শিক্ষিত নারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং পরিবার ও নারী বিষয়ে প্রস্তাবের ভিত্তি হতে হবে কুরআন-সুন্নাহ, সংবিধান এবং সামাজিক বাস্তবতা।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজির সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি, ইসলামিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা রুহুল আমীন সাদি (সাইমুম সাদী), মুফতি সাকিবুল ইসলাম কাসেমি প্রমুখ।