প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:২২ পিএম
এক ঠিকানায় সকল নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের উদ্যোগে আসছে নতুন সেবা আউটলেট ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’, যার সংক্ষেপিত রূপ ‘নাগরিক সেবা’।
আগামীকাল ১ মে থেকেই সেবাদাতা হিসেবে ব্যক্তি উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন। চলমান ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকেও এখানে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের www.nagoriksheba.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনের অনুরোধ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে সরকারি সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর উদ্যোগ হিসেবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা, যা নাগরিক সেবা কেন্দ্রে (কিয়স্ক) এখনই নেওয়া যাবে তার তালিকা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুরুতে প্রায় একশ সেবা দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ন্যাশনাল ইন্টার-অপারেবিলিটি ফ্রেইমওয়ার্ক এবং ডেটা গভর্নেন্স কাঠামো গঠন ও কার্যকরের পাশাপাশি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে গতি বাড়বে।
একইসঙ্গে সেবা সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্র পৌঁছে যাবে বাংলাদেশের সব শহরে, সব গ্রামে এবং ওয়ার্ডে।
উল্লেখ্য, নাগরিক সেবা কেন্দ্রে আবেদনের পরে নাগরিককে আবেদনের জন্য 'প্রিন্টেড পেপার' নিয়ে কোনো সরকারি বা আধা বেসরকারি অফিসে যেতে হবে না। বরং সেবা কেন্দ্রের সাইট থেকে অনলাইনে জমা দেওয়া অবেদন সরাসরি ট্র্যাকিং নাম্বারসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর পেছনে কাজ করবে একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ সার্ভিস বাস। ন্যাশনাল সার্ভিস বাস মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ইন্টার-অপারেবিলিটি নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ডেটা গভর্নেন্স এন্ড ইন্টার-অপারেবিলিটি অথরিটি তথ্য লেনদেনের মান, উপযোগিতা, গোপনীয়তা এবং সাইবার সিকিউরিটি দেখভাল করবে।
‘নাগরিক সেবা ইউজার ইন্টারফেইস হিসেবে একটি সিঙ্গেল সার্ভিস পোর্টাল বা ওয়েব সাইট তৈরি করবে এবং সাথে সাথে থাকবে সুপার অ্যাপ। এই পোর্টাল ও ওয়েবে থাকবে সকল সেবার সিঙ্গেল গেইটওয়ে, বিলিং এগ্রিগেটর এবং পেমেন্ট গেইটওয়ে,’ বলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
এ উদ্যোগের আওতায় থাকছে-
নাগরিক পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিষয়ক আবেদন; পরিচয়পত্র সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ; ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও আবেদন; সিঙ্গেল ল্যান্ড সার্ভিস গেইটওয়ে; নতুন পাসপোর্টের আবেদন, পাসপোর্ট নবায়ন; অনলাইন জিডি; আয়কর রিটার্ন আবেদন; ভ্যাট চালান জমাদান আবেদন; ট্রেড লাইসেন্স ও ট্রেড মার্ক আবেদন; বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ভাতা ও অনুদানের আবেদন; বিদ্যুৎ পানি গ্যাসসহ সকল ইউটিলিটি; ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন নবায়ন; শিক্ষা স্বাস্থ্য ও কৃষি সেবা; ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন নবায়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা।
প্রধান উপদেষ্টার মতে- এই উদ্যোগ শুধু জনগণের সেবা গ্রহণকে সহজ করবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য একটি লাভজনক সামাজিক ব্যবসার দিগন্ত খুলে দেবে। শুরুতেই দোকান কিংবা কিয়স্কের মাধ্যমে সেবা দেয়া হবে, পরবর্তীতে যেকোনো ব্যক্তি ঘরে বসেই এজেন্ট-শিপ নিয়ে ডিজিটাল নাগরিক সেবা দিতে সক্ষম হবে। এই পর্যায়ে প্রফেসর মূহাম্মদ ইউনূসের 'ভিলেজ ফোন লেডি' কন্সেপ্ট ''সিটিজেন সার্ভিস পার্সন' কিংবা 'সিটিজেন সার্ভিস লেডি'তে নতুন রূপান্তরিত হবে।
উদ্যোক্তাদের জন্য আহ্বান- দেশের যেকোনো এলাকায় আগ্রহী উদ্যোক্তারা খুব সহজেই নাগরিক সেবা এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন। এজন্য নাগরিকসেবা ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করলেই হবে।