ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৫ ২১:১৮ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম
প্রবা ফটো
মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ‘মানবিক করিডর’ দিতে বাংলাদেশের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ঠিক হয়নি। সরকারের উচিৎ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এই করিডর দেওয়ার ফলে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব হুমকি’র মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের শেখ বাজারে আয়োজিত গণসংযোগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল সোমবার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শর্ত সাপেক্ষে রাখাইনে বাংলাদেশের মানবিক করিডর দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘এতটুকু আপনাদের বলতে পারি, নীতিগতভাবে আমরা এতে সম্মত। কারণ, এটি একটি হিউম্যানিটেরিয়ান প্যাসেজ (মানবিক সহায়তা সরবরাহের পথ) একটা হবে। কিন্তু আমাদের কিছু শর্তাবলি রয়েছে। সেই শর্তাবলি যদি পালিত হয়, আমরা অবশ্যই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সহযোগিতা করব।’
এ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা খবর দেখে চিন্তিত হলাম, বাংলাদেশের যে বৈদেশিক উপদেষ্টা তৌহিদ সাহেব, তিনি বলছেন- মিয়ানমারের আরাকানে মানবিক একটা প্যাসেস (করিডর) দিচ্ছি। অনেক কঠিন কথা, আপনাদের বোঝানো মুশকিল হচ্ছে আমার। অর্থাৎ ওখানে (আরাকানে) যাওয়া যায় না তো। এখন আমাদের বাংলাদেশের চিটাগং দিয়ে যাওয়া যাবে এবং যোগাযোগ করা যাবে। এখন যোগাযোগ করার জন্য ওখানে মানবিক প্যাসেস দিচ্ছে।’
‘যেমন গাজায় সহায়তা পাঠানোর জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে মানবিক প্যাসেস তৈরি করা হয়েছে। মানবিকতা থাকার দরকার ভালো কথা, কিন্তু আজকে বাংলাদেশকে ওই জায়গায় পৌঁছাতে হলো যে, একটা মানবিক প্যাসেস দিতে হচ্ছে। এটা অনেক বড় সিদ্ধান্ত, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীলতা জড়িত আছে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উচিৎ ছিল দায়িত্ব ছিল, সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলা। এটা কথা না বলে তারা (সরকার) এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মানবিক প্যাসেস দেওয়ার জায়গা দিচ্ছে। আমাদের মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে কোনও আপত্তি নাই। জাতিসংঘ উদ্যোগ নিয়েছে সাহায্য করতে আমাদের আপত্তি নাই। তবে এটা হতে হবে সমস্ত মানুষের সমর্থনে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আরেকটা গাজায় পরিণত হতে চাই না, আমরা আরেকটা যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চাই না। আমাদের এখানে এসে কেউ গোলমাল করুক এটাও চাই না। একে তো আমরা রোহিঙ্গা নিয়ে বড় সমস্যায় আছি, তার ওপর প্যাসেস দেওয়া নিয়ে যাতে সমস্যার সৃষ্টি না হয়, এজন্য আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল।’
বক্তব্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণারও দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাফরুল্লাহ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন বক্তব্য দেন।