প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৫৬ এএম
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান-বনানী এলাকায় সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে এ পরিবহন চালানো নিষিদ্ধ করে ব্যানার টানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। তবে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে ৮০ থেকে ১০০ জন রিকশাচালক গুলশান-২ নম্বরের দিক থেকে ভেতরের রাস্তা দিয়ে মিছিল করেন। এ ছাড়া গুলশানের কালাচাঁদপুর ও বনানী ১১ নম্বর সড়কে সমাবেশ করেন তারা। এ সময় তাদের গুলশান-বনানী এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেওয়ার দাবিতে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালাচাঁদপুরে সমাবেশের সময় রিকশাচালকদের কেউ কেউ সড়কে শুয়ে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সড়কে যান চলাচল বন্ধ না করতে তাদের অনুরোধ করে। তবে পুলিশের অনুরোধে সাড়া না দিয়ে বেশ কয়েকজন রিকশাচালক সড়কে শুয়েই থাকেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া রিকশাচালকরা অভিযোগ করেন, গুলশান সোসাইটির নিবন্ধিত রিকশা ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা গুলশান এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রিকশাচালক কাইয়ুম জানান, গুলশান সোসাইটির নিবন্ধন নেই। এমন অটোরিকশা গুলশান এলাকায় গেলে রিকশার ক্ষতি করা হচ্ছে। এ সময় গুলশান এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কূটনৈতিক জোন হওয়ায় আগে থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ছিল। নির্দিষ্ট পোশাকে গুলশান-বনানী এলাকার সোসাইটির অনুমোদিত প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি ছিল। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ঢাকার সব এলাকায় প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ব্যাপক বেড়ে যায়। অন্যান্য এলাকার মতো গত ৮ মাস ধরে গুলশান-বনানী এলাকায়ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বাড়ে। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে থাকে। এলাকাবাসীর দাবির মুখে গুলশান সোসাইটি, পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের যৌথ সিদ্ধান্তে শনিবার থেকে গুলশান এলাকায় সব ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গুলশান সোসাইটি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সিদ্ধান্তের কারণে গতকাল থেকে গুলশানের ৯টি প্রবেশপথে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুলশান সোসাইটি ২০ জন অতিরিক্ত গার্ড নিয়োগ দিয়েছে। যারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
গুলশানের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আগে গুলশানে শুধু নিবন্ধিত রিকশাগুলো চলাচল করত, এতে পরিবেশটা খুব ভালো ছিল। কিন্তু গত সাত-আট মাস ধরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে গুলশানের ভেতরে পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। তারা গুলশানের ভেতরে সড়কগুলো চেনে না, আবার দ্রুতগতির রিকশা এনে দুর্ঘটনা ঘটায়। বাসিন্দারা এসব রিকশার কারণে সড়ক পারাপারেও ভয় পান। এসব রিকশা চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না, ভেতরের পরিবেশটা আজ খুব ভালো লাগছে। গুলশান সোসাইটিকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে।’
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মুখপাত্র মকবুল হোসাইন বলেন, ‘স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে ডিএমপির সহযোগিতায় ক্রমান্বয়ে সব এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এরই ধারাবাহিকতায় গুলশান সোসাইটির সহযোগিতায় গুলশান এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়েই এ কাজটি নিয়মিত করবে ডিএনসিসি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আলী আহম্মেদ মাসুদ বলেন, ‘গুলশান সোসাইটির নিবন্ধিত রিকশাগুলো গুলশান এলাকার যাত্রী পরিবহন করে থাকে। সম্প্রতি গুলশান এলাকায় ছিনতাই-চাঁদাবাজি ও যানজট বেড়ে গেছে। কারণ, অনিবন্ধিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এ জন্য নিবন্ধিত রিকশা ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এ কারণে একশ্রেণির রিকশাচালক সকাল থেকে গুলশান ও বনানী এলাকায় সমবেত হয়ে মিছিল করেন।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে রিকশাচালকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গুলশান সোসাইটিতে নিবন্ধন করিয়ে তারা যেন গুলশান এলাকায় রিকশার যাত্রী পরিবহন করেন।’