প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ০২:০২ এএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৫৪ এএম
সারা দিন প্রচণ্ড রুদ্রতাপে হা-হুতাশ করেছে রাজধানীবাসী। গরমের কারণে কাজেও মেজাজ হারিয়েছে অনেকে। এ অবস্থায় ক’ফোঁটা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা অনেকের। এরই মধ্যে রবিবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হয়।
এ সময় রাজধানীতে ৫১ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখি বয়ে গেছে। তা ছাড়া প্রায় এক ঘণ্টায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রবিবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এ সময় কালবৈশাখিও বয়ে যায়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার। তবে সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ কিলেমিটার।
শনিবারও ঢাকায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছিল। তাতে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে নগরবাসী। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পাবনায় ১৭ মিলিমিটার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের আরও কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।
এদিকে ২৭ মার্চ থেকে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু, মাঝারি ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল ঢাকা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, ফেনী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলেছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, যখন কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। যখন তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে দুয়েক স্থান বলতে বোঝায় ১-২৫ শতাংশ এলাকা, কিছু কিছু স্থান বলতে ২৬-৫০, অনেক স্থান ৫১-৭৫ এবং অধিকাংশ স্থান বলতে ৭৬-১০০ শতাংশ এলাকা।