বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৫ ২১:৫৫ পিএম
বুধবার ঢাবি কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স কনসোর্টিয়াম' আয়োজিত ইফতার। প্রবা ফটো
ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষদের ওপরে ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম-অমুসলিম দেশের মানুষ বৃহৎ পরিসরে প্রতিবাদ করলেও বাংলাদেশে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না বলে নিজের দেশকে নিয়ে লজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
বুধবার (১৯ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স কনসোর্টিয়াম' আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
আহমাদুল্লাহ বলেন, আমরা আজ নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দু-চার কলম লেখা, তাদের সহমর্মিতায় কখনও রাস্তায় মানববন্ধন করা, তাদের পক্ষে একটু প্রতিবাদ করা- এ দায়িত্বটুকুও আমরা পালন করছি না। আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবে লজ্জিত হই, কারণ ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের মতো এরকম নির্লজ্জভাবে এতটা নীরবতা, স্তব্ধতা, পৃথিবীর কোনো দেশে আমার চোখে পড়েনি। জাপানের মতো দেশ, যেখানে মুসলিমদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম, সেখানে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় মিছিল হয়েছে। কিন্তু আমার দেশে হচ্ছে না। পৃথিবীর বিভিন্ন অমুসলিম দেশে এমনকি খোদ আমেরিকা পর্যন্ত মানব ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক বর্বরোচিত, অসভ্যতার বিরুদ্ধে যেভাবে ফুঁসে উঠেছে, এটার বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, ইহুদি কোম্পানিগুলো বয়কট করেছে, আমার দেশে পর্যন্ত সেটা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আজকের মুসলমানদের রক্তচোষারা ফিলিস্তিনের গাজার মানুষের রক্তচোষারা, সকাল-বিকাল যারা রক্ত দিয়ে নাস্তা করে, খাবার খায়, তারা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে, পরিকল্পিতভাবে ১৭ রমজানকে নির্বাচন করে ঐতিহাসিক বদর দিবসকে নির্বাচন করে, সেহরির সময় আঘাত করেছে। এটা পরিকল্পিত। প্রতিবছর দেখবেন, তারা ঠিক রমজান মাসে আঘাতটা করে। তারা পরিকল্পনা করে রমজান মাসে, ঈদের দিনে বাছাই করে করে তারা আঘাত করে।
শায়খ বলেন, পশ্চিমা বা ইউরোপের দেশগুলোতে গেলে দেখা যায়, যারা আমাদের ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যালঘু’, ‘অধিকার-অধিকার' বলতে বলতে মুখে ফেনা ছুটায়, তারা শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে প্রত্যেকটা মানুষকে হ্যারাসমেন্ট করায়। তাদের এই যে ভালো মানুষের মুখোশটা আছে, এটা সরানোর দায়িত্ব আমাদের।
এ দেশের মুসলমানরা সংখ্যায় মেজরিটি হলেও কালচারালি মাইনরিটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদেরকে সাংস্কৃতিকভাবে সংখ্যালঘু করে রাখা হয়েছে। এদেশের দাড়ি-টুপি নিয়ে কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে শুধু কুরআন হাদিসের কথা বলবে সেটা নিয়েও জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কিছু মিডিয়া ইসলামের প্রতি যে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে, তা আমাদের ভাঙতে হবে। আমাদের বুক থেকে জগদ্দল পাথর সরে গেছে, কিন্তু সাংস্কৃতিক যে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মুসলমানরা যত বেশি শিক্ষিত হবে, তত বেশি এদেশে সংখ্যালঘু ভালো থাকবে, এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তত বেশি সুন্দর হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইসলামের প্রতি একধরনের ভীতি এদেশে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন ইসলাম মানেই আতঙ্কের নাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাবি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কালাম সরকার প্রমুখ।