× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও মৃত্যু কমেনি সড়কে

ফয়সাল আহম্মেদ

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৫ ১২:০৭ পিএম

প্রবা গ্রাফিক্স

প্রবা গ্রাফিক্স

কমছে না সড়কে দুর্ঘটনা, ফলে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। সম্প্রতি রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন প্রায় ২১ জন মানুষ। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা ওভারস্পিড, যাত্রী ও চালকের অসচেতনতা, পরিবহন সেক্টরের বিশৃঙ্খলাকেই দুষছেন।

তারা বলছেন, দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও দুর্ঘটনা হ্রাস পায়নি। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে গাইডলাইন থাকলেও, তা কতটুকু সুফল বয়ে আনছেÑ এ নিয়েও সন্দিহান তারা।

গত ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে ৫৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনা নিহত হয়েছেন ৫৭৮ জন। আহত কমপক্ষে ১ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যার সংখ্যা ২৪১টি। এতে নিহত ২২৭ জনÑ যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। 

গতকাল শনিবার ফেব্রুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বলছে তারা, ১৬টি সংবাদমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি। যেখানে ২০৫টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৯৮ জন। বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা সবচেয়ে কম। এখানে ৩৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৪ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকায় ৪১টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলায়। এ জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি নেই বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৭ এবং আহত ৩৬ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘গত জানুয়ারি মাসে ৬২১টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬০৮ জন। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে নিহতের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৬১ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৯৬টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫৭৮ জন। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০ দশমিক ৬৪ জন। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত গতি। এই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের অনুপ্রেরণামূলক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এ জন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত দুই মাসে সড়কে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। প্রতিবেদনে যে নিহতের সংখ্যা এসেছে সেটা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। সড়কে এ ভাবে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। উন্নত বিশ্ব যে প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে সড়কে নিরাপত্তা দিচ্ছে, আমাদেরও সেই প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে। পরিবহন সেক্টরের স্বচ্ছতার জন্য এই সেক্টরকে ডিজিটালাইজ করতে হবে।’

ঈদকে সামনে রেখে কেন সড়কে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়Ñ এমন প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রথমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে যাত্রীদের আরও সচেতন হতে হবে।’

এ ব্যাপারে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক দুটি উদ্যোগই নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যেগের মধ্যে দক্ষ চালক তৈরি, আনফিট পরিবহন বন্ধ এবং পরিবহন চালকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিকের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব নিশ্চিত করতে না পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব না।’ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোর যথেষ্ট দায়ভার আছে বলেও তিনি মনে করেন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘সড়কে বিশৃঙ্খলার মাত্রা যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে যেখানে বৈধ যানবাহনের চেয়ে অবৈধ যানবাহন বেশি, বৈধ চালকের চেয়ে অবৈধ চালকের সংখ্যা বেশি সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না। দেশে অবৈধ যানবাহন এবং অবৈধ চালক দুটিই চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। অবৈধ চালকের বিচরণক্ষেত্র অলিগলি থেকে শুরু করে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। সড়কে যতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত কাজ না করা যাবে ততদিন সড়ক দুর্ঘটনা কমার কোনো সম্ভবনা নেই।’

ঈদের সময় সড়কে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্বল্প সময়ের জন্য যানবাহনের একটা বড় চাহিদা তৈরি হয়; এই সুযোগে অবৈধ যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সড়কে আনফিট গাড়ি নেমে পড়ে।’ এ সময়ের দুর্ঘটনা রোধে তিনি ঈদের সময় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিতসহ সব ছোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে মত দেন। এ ছাড় রঙ লাগিয়ে যেন কোনো আনফিট গাড়ি দীর্ঘযাত্রায় শামিল না হতে পারে, সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি রাখার পরামর্শ দেন।

পরিবহন সেক্টরে কেন শৃঙ্খলা ফিরছে নাÑ এমন এক প্রশ্নের উত্তরে এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরের মূল ব্যক্তি হচ্ছেন ‘রাজনৈতিক’। আর যতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা না করবে, ততদিন এই বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বের হওয়া যাবে না।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা