প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫ ০০:৪৪ এএম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১০:৫৫ এএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও টবি ক্যাডম্যান। ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণহত্যার মামলাগুলো নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা টবি ক্যাডম্যান। সাক্ষাতে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার মামলাগুলো আইসিসিতে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ক্যাডম্যান। তিনি বসনিয়া, কসোভো, রুয়ান্ডা, ইয়েমেন, সিরিয়া এবং ইউক্রেনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গত মাসে জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা এ মামলাগুলো আইসিসিতে পাঠাবে কি না।’
সাক্ষাৎকালে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ঢাকা কীভাবে সম্পৃক্ত করবে, সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা, বাংলাদেশের ন্যায়বিচারের প্রচেষ্টা এবং আদালতের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় বলা হয়, কিছু পলাতক অভিযুক্তকে বিদেশি রাষ্ট্র রক্ষা করছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিপূরক নীতির অধীনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। অপরাধীদের সম্পূর্ণ জবাবদিহির আওতায় আনতে দুই প্রতিষ্ঠানকে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান উল্লেখ করেন, কিছু ব্যক্তি বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে। তাদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন এবং এ কারণেই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার গুরুত্ব অপরিহার্য।
ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।’
সাক্ষাৎ শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্যাডম্যানকে ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ : গ্রাফিতি অব বাংলাদেশ’স নিউ ডন’ বইয়ের একটি কপি উপহার দেন। বইটি নতুন যুগে বাংলাদেশি জনগণের আশা ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।