ব্যাটারিচালিত রিকশা
সুজন কৈরী
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৫ ০৯:২১ এএম
নীতিমালা ছাড়াই অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। রাজধানীতে যানজটের অন্যতম কারণও এই বাহন। বুধবার মিরপুর রোড থেকে তোলা। ছবি : আলী হোসেন মিন্টু
রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের পথে নামলেই শতেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যানজট, পরিবেশদূষণ, আইনশৃঙ্খলা, ভিড়Ñ এসব সমস্যা মেনে নিয়ে তারা এত দিন ঘরের বাইরে পা ফেলেছেন। সম্প্রতি আরেকটি সমস্যা যোগ হয়েছেÑ ব্যাটারিচালিত রিকশা (অটোরিকশা) বা ইজিবাইক। ঢাকার সড়কে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহন। এগুলোর চলাচল আগে নগরীর অলিগলিতে হলেও এখন রাজধানীর মূল সড়কে উঠে এসেছে। কোনো নিয়মনীতি না থাকায় এগুলোর চলাচল হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সেসঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চালক। ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সার্বিকভাবে এই ব্যাটারিচালিত রিকশা ঝুঁকিতে ফেলেছে পুরো নগরবাসীকে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য সারা দেশেই চলছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এর যাত্রা শুরু হয়। দিন দিন তা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজধানীতে ১০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা রয়েছে। এসব বাহনের চালকরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বাধাই মানছেন না।
তিন চাকার এই বাহনটিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম আইনের চোখে অবৈধ। এই বাহনে ব্যবহার করা হয় সিসাযুক্ত বা পাউডার ব্যাটারি (লিড অ্যাসিড ব্যাটারি) এবং বৈদ্যুতিক চার্জিং স্টেশন। এর কোনোটিই ব্যবহারের আইনগত বৈধতা নেই। বিআরটিএ বা সিটি করপোরেশন এই বাহনের কোনো লাইসেন্সও দেয়নি।
অবৈধ এসব বাহন রাজপথ দাবড়ে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতেও সরকারের লোকসানের পাল্লা ভারী করছে। কেননা, এগুলোর ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে।
এসব পরিবহনের মালিক-চালকদের সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, রাজধানীতে ১০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা রয়েছে, যেগুলোর ওপর নির্ভরশীল কমপক্ষে ৬০ লাখ পরিবার। এ অবস্থায় এসব যানবাহন রাজধানীতে চলাচল নিষিদ্ধ করলে ওই পরিবারগুলো আয়ের উৎস হারিয়ে বিপাকে পড়বে।
তাদের দাবিÑ শৃঙ্খলার ঘাটতি, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব ও অটোরিকশার স্পিড লিমিট কন্ট্রোল করতে না পারার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে। এসব যানবাহনকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে বৈধভাবে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হোক। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, বাস্তবতা মেনে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে অটোরিকশা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে দেশের গণপরিবহন খাতকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে।
যেভাবে শুরু
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১২ সালের দিকে প্রথমে চীন থেকে আমদানি করা ইজিবাইক দেশের বিশেষত জেলা-উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে চলাচল শুরু করে। এরপর সেটিকে স্থানীয়ভাবে পরিবর্তন এনে ব্যাটারি দিয়ে অটোরিকশা তৈরি করা হয়। প্রথম দিকে এগুলো গলি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও একপর্যায়ে তা প্রধান সড়কগুলোতে উঠে আসে।
ঢাকার রাস্তায় প্রথম দিকে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা রিকশা চালানোর সুযোগ পান। ক্রমান্বয়ে এটি হয়ে উঠেছে একশ্রেণির নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের মূল উৎস। গোড়ার দিকে পুলিশ এটিকে প্রধান সড়কে উঠতে দেয়নি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এটি রাজধানীতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। আর সে সুযোগে ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে এসব যানবাহন।
সুযোগটা লুফে নেন রিকশা গ্যারেজের মালিক-ব্যবসায়ীরা। কোনো কোনো গ্যারেজ মালিকের ১৫০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এগুলো ভাড়ায় চলে। ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক দরিদ্র চালকও তিন চাকার এই গাড়ির আয় দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, এই বাহনকে এখন আর রুখতেও পারছে না ট্রাফিক পুলিশ বা দায়িত্বশীলরা।
সরেজমিন চিত্র
রাজধানীর মিরপুর, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বাড্ডা, রামপুরা, সিপাহীবাগ, মালিবাগ ও মগবাজারসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সড়কের মোড়ে এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে রিকশাগুলো। এতে মোড় ঘোরার সময় বা প্রধান সড়কে ওঠার সময় যানবাহনগুলো আটকে যাচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। অলিগলির বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি মূল সড়কেও বেপরোয়াভাবে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
প্রধান সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। যন্ত্রচালিত অন্য যানবাহনগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে এগুলো। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যাচ্ছে। এমনকি সড়কে যানজট এড়াতে শান্তিনগর মোড় থেকে রামপুরা আবুল হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত ফ্লাইওভারেও পরপর দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উঠে পড়তে দেখা যায়।
এ ছাড়া রাজধানীর প্রায় সড়কেই চলছে যন্ত্রচালিত এসব রিকশা উল্টোপথে ছুটতে দেখা যায়। রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় উল্টো থেকে অটোরিকশা চলাচলের প্রবণতা বেশি চোখে পড়ে। আরেকটি আশঙ্কার বিষয় হলো, যন্ত্রচালিত এসব রিকশার চালকদের অধিকাংশই কিশোর বয়সি। শিশু বয়সি চালকও আছে।
মূল সড়কে অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচলে বিপদে পড়ছে দ্রুতগতির যানবাহনগুলোও। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রাফিক এবং কমিউনিটি পুলিশের তৎপরতাও অটোরিকশার খামখেয়ালি চলাচল থামাতে পারছে না।
যা বলছেন নগরবাসী
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় মাশরুক নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘অটোরিকশায় দ্রুত গন্তব্যে যাওয়া যায়, এটা ঠিক। তবে দ্রুত যেতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটাচ্ছেন চালকরা। এক দিন দেখলাম একটি অটোরিকশা দ্রুত এসে সামনে আরেকটি রিকশার ওপর উঠিয়ে দিয়েছে। তবে ওই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হননি।’
বাবলু নামের মধ্যবাড্ডা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো প্রায় সময়ই উল্টোপথে চলে। এজন্য এই সড়কে যানজট লেগেই থাকে। সরকারের উচিত দ্রুত এগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।’
মিরপুর ১০ নম্বরে কথা হয় সুমন নামের একজনের সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘এখানকার মোড়গুলোতে অটোরিকশা এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকে যে, বড় গাড়িগুলো ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে যানজট লেগেই থাকে। এ ছাড়া এসব রিকশা উল্টোপথে চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা কামরুল বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো ট্রাফিক নিয়ম মানার তোয়াক্কাই করে না। অল্প বয়সি চালকরা চলতি পথে কোনো ইশারা না দিয়েই হুট করে সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে ঘুরিয়ে ফেলেন। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনাও।’
স্বাস্থ্যঝুঁকি
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেনিন চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অটোরিকশায় চলাচলে মানুষের শারীরিক ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো চলার সময় বেশ ঝাঁকির সৃষ্টি হয়। ফলে কোমরের হাড়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অটোরিকশায় স্প্রিং সংযোজন করা হলে ঝাঁকি কমবে। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও কিছুটা কমে আসবে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতা যা বলেন
অটোরিকশায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই (প্রায় ১৩ বছর) অটোরিকশা নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। নীতিমালা হলে একটা আইনি কাঠামো দাঁড়াবে। তখন দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। চালকদের প্রশিক্ষণও জরুরি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়লে ও চালকরা প্রশিক্ষিত হলে সুফল মিলবে।’
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে কতগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারণা করা যায়, রাজধানীতে অটোরিকশাচালক রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ। সারা দেশে এর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। আর এর সঙ্গে ব্যাটারি ও রিকশার বডি নির্মাণসহ নানা সরঞ্জাম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধরলে সংখ্যাটা ৬০ লাখ ছাড়াবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বড় বড় গ্যারেজ বা একক মালিকানায় কারও কারও অনেক রিকশা আছে। অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঋণের টাকায় রিকশা কিনে চালাচ্ছেন।’
খালেকুজ্জামান লিপন আরও বলেন, ‘বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা করা হলে সব জটিলতার অবসান হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। কিন্তু নীতিমালা না হলে কোনো কিছুরই সুরাহা হবে না। সেসঙ্গে রিকশার বডিও মোডিফাই করতে হবে।’
অবৈধভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে লিপন বলেন, ‘কিছু কিছু গ্যারেজ মালিক হয়তো এটি করছেন। তবে নীতিমালা হয়ে গেলে রেজিস্ট্রেশন হবে। তখন চার্জিং স্টেশনও তৈরি হবে। তখন সরকার রাজস্ব পাবে।’
লিপন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আট দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। সরকার আশ্বাস দিয়েছে স্বল্প সময়ের মধ্যে দুয়েকটি বৈঠক করে আমাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন করবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশার চালকরা আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অব্স্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশের ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা ঢাকায় মহাসমাবেশ করবেন।’
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আফসার আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রিকশার ডিজাইন করা হয়েছে মূলত অল্পগতির জন্য। কিন্তু বর্তমানে রিকশাগুলোতে মোটর লাগিয়ে গতি বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে নেই সঠিক ব্রেকিং সিস্টেম। গতি নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। ফলে এটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। এই রিকশার সেন্টার অব গ্র্যাভিটি (সিজি) নিয়েও সিদ্ধান্তে আসা উচিত। কারণ চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ ব্রেক করলে বাহনটি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।’
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘মোটরচালিত রিকশা সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে সরকারের উচিত দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা। পরবর্তীকালে সেই নীতিমালার আলোকে অটোরিকশা তৈরি করতে হবে। তাতে করে কমে আসবে দুর্ঘটনাও।’
যা বলছে পুলিশ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার আলোকে এখন থেকে কোনো ব্যক্তি একাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক হতে পারবেন না। এক্ষেত্রে যিনি চালক তিনি মালিকÑ এই নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেও অনেক সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বাইরের ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশ করলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।