× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিতর্কিত তিন নির্বাচন

ওএসডি পুলিশ কর্তাদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:১২ এএম

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৫০ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আছেন দৌড়ের ওপর। শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর এবার তাদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মাত্র সাত মাস আগে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এসব কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশ প্রশাসনে সবচেয়ে দাপুটে। দলনিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তারাও তাদের সমীহ করে চলতেন। পদায়ন, পদোন্নতি থেকে শুরু করে সবই হয়েছে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছায়। 

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তাদের অনেককে বাধ্যতামূলক অবসর ও সংযুক্তি করা হয়। 

সবশেষ গত মঙ্গলবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৮২ পুলিশ কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, ১৩ জন ডিআইজি, ৪৯ জন অতিরিক্ত ডিআইজি ও ১৯ জন পুলিশ সুপার রয়েছেন। তারা ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে আদেশে ওএসডির কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এবার ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দুদককে পত্র দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখা থেকে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। শিগগিরই দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করবে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওএসডি মূলত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যত দায়িত্বহীন করে দেওয়া। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হলে তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই ধরা হয়। যদিও সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ। দেশের ইতিহাসে একযোগে এত বেশি সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে ওএসডি করার ঘটনা এটাই প্রথম।

গত শুক্রবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগের সময় ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপারদের ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে।

এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ও র‌্যাবের হয়ে দায়িত্ব পালন করা ১০৩ কর্মকর্তার পদক প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার পাশাপাশি একসময় র‌্যাবে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার নামও রয়েছে এই তালিকায়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ সালের দশম ও ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বিএনপি, জামায়াত ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমমনা দলগুলো বর্জন করে। এর আগে ২০১৮ সালে তারা ভোটে এলেও আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী করার অভিযোগ ওঠে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই নির্বাচনগুলোতে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক প্রত্যাহার এবং ওএসডি করা ছাড়াও একাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা সে সময়ের ৩৩ ডিসিকে ওএসডি করা হয়েছে। সবশেষ তারা যুগ্ম সচিব হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মঙ্গলবার ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারাই ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটের’ অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা তৎকালীন সরকার সমর্থক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটের আগের রাতেই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ নেতৃত্ব দেন। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী সরকার দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনই আলোচনার কেন্দ্রে। ওই সময় তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট’ কামিয়েছিলেন বলেও প্রচার রয়েছে।

বিগত নির্বাচনে তৎকালীন সরকারদলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগর হিসেবে আলোচিত-সমালোচিত ওই ডিসি-এসপিরা আবারও আলোচনায়। এবার তাদের ফাইল ধরে টান দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। রাতের ভোটের কারিগর বলে পরিচিত এসব ডিসি-এসপির বিপুল অঙ্কের অবৈধ আয়ের কর ফাঁকি অনুসন্ধানে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট ব্যাপক আয়োজনে মাঠে নেমেছে। ডিসিদের ওএসডি, বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার পর সে সময়ে জেলা পুলিশ সুপার পদে কাজ করা কর্মকর্তাদের ওএসডি করা হয়।

প্রসঙ্গত, জুলাই হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলার আসামি হওয়ায় এর আগেই ওএসডি হয়েছেন ২০১৮ সালে এসপি পদে দায়িত্ব পালন করা তিন কর্মকর্তা। আর ঝালকাঠি জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জুবায়েদুর রহমান কিছুদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার ওই নির্বাচনের বাকি ৬০ জন এসপিসহ মেট্রোপলিটন সিটি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা ওএসডি হলেন।

পুলিশে ওএসডি হয়েছেন যারা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে গত মঙ্গলবার ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। তারা হলেনÑ অতিরিক্ত আইজিপি মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ, ডিআইজি এসএম মোস্তাক আহমেদ খান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাসুদ আহাম্মদ, মো. মারুফ হোসেন সরদার, নাবিদ কামাল শৈবাল, মো. হামিদুল আলম, বিজয় বসাক, মো. ফারুক উল হক, মো. আমির জাফর, মো. সাজিদ হোসেন, মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম, মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, মোহাম্মদ এহসান শাহ, মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা, কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান ও মোহাম্মদ শরিফুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান, মো. জয়নুল আবেদীন, মো. আজবাহার আলী শেখ, মোহা. সোহেল রেজা ও মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক।

২০১৮ সালের এসপিদের মধ্যে যারা ওএসডি হলেনÑ ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, সাতক্ষীরায় সাজ্জাদুর রহমান, নরসিংদীতে মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সুনামগঞ্জে বরকতুল্লাহ খান, চাঁদপুরের জিহাদুল কবির, যশোরের মঈনুল হক, নোয়াখালীর ইলিয়াছ শরীফ, চট্টগ্রামের নূরে আলম মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনোয়ার হোসেন খান, ময়মনসিংহে শাহ আবিদ হোসেন, সিরাজগঞ্জে টুটুল চক্রবর্তী, বরিশালে সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লায় সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পাবনায় শেখ রফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জে মাশরুকুর রহমান খালেদ, নেত্রকোণায় জয়দেব চৌধুরী, জামালপুরে দেলোয়ার হোসেন, গাইবান্ধায় আবদুল মান্নান মিয়া, টাঙ্গাইলে সঞ্জিত কুমার রায়, দিনাজপুরে সৈয়দ আবু সায়েম, রাজশাহী মো. শহীদুল্লাহ, বগুড়ায় আলী আশরাফ ভুইঞা, খুলনায় এসএম শফিউল্লাহ, নওগাঁয় ইকবাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, ফরিদপুরে জাকির হোসেন খান।

আরও রয়েছেনÑ ঠাকুরগাঁওয়ে মোহা. মনিরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গায় মাহবুবুর রহমান, কুড়িগ্রামে মেহেদুল করিম, পঞ্চগড়ে গিয়াস উদ্দিন আহমদ, রাঙামাটিতে আলমগীর কবির, সিলেটে মো. মনিরুজ্জামান, ঝালকাঠিতে জোবায়েদুর রহমান, জয়পুরহাটে রশীদুল হাসান, গোপালগঞ্জে মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, গাজীপুরে শামসুন্নাহার, নাটোরে সাইফুল্লাাহ আল মামুন, মাগুরায় খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, মৌলভীবাজারে মোহাম্মদ শাহ জালাল, লক্ষ্মীপুরে আ স ম মাহাতাব উদ্দিন, খাগড়াছড়িতে মোহা. আহমার উজ্জামান, রংপুরে মিজানুর রহমান, লালমনিরহাটে এসএম রশিদুল হক, বাগেরহাটে পংকজ চন্দ্র রায়, ভোলায় মোকতার হোসেন, মাদারীপুরে সুব্রত কুমার হালদার, বরগুনায় মারুফ হোসেন, পিরোজপুরে মোহাম্মদ সালাম কবির, মুন্সীগঞ্জে মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, বান্দরবানে মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, ফেনীতে এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, ঝিনাইদহে মো. হাসানুজ্জামান, নড়াইলে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নীলফামারীতে মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, পটুয়াখালীতে মোহাম্মদ মইনুল হাসান, হবিগঞ্জে মোহাম্মদ, মানিকগঞ্জে রিফাত রহমান শামীম, মেহেরপুরে মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রাজবাড়ীতে আসমা সিদ্দিকা মিলি, শেরপুরে কাজী আশরাফুল আজীম, শরীয়তপুরে আব্দুল মোমেন, কুষ্টিয়ায় এসএম তানভীর আরাফাত এবং কক্সবাজারে এবিএম মাসুদ হোসেন।

সবাই ছিলেন দাপুটে কর্মকর্তা

২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব কাছের। তাদের দাপটও ছিল বেশ। শুধু তা-ই নয়, পুরো পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ প্রায় সবকিছুতেই তাদের হাত থাকত। তাদের অনেকে পেয়েছেন দ্রুত পদোন্নতি। তাদের কেউ কেউ ওই সরকারের সময়ে এসপি থেকে দুই-তিন বছরের মাথায় ডিআইজি পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। 

একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এসব পুলিশ কর্মকর্তার একজন সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। এমনকি প্রভাব খাটিয়ে দুই ভাইকেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় জনপ্রতিনিধি করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন পলাতক বলে জানা গেছে। 

২০১৮ সালে নির্বাচনের সময় সৈয়দ নুরুল ইসলাম কুমিল্লার এসপি ছিলেন। মো. শহিদুল্লাহ ছিলেন রাজশাহীর এসপি। সম্প্রতি তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ডিএমপির ডিবি ও উত্তরা বিভাগের ডিসিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এই কর্মকর্তা। 

নির্বাচনের সময় কক্সবাজারের এসপি ছিলেন এবিএম মাসুদ হোসেন। সে সময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় তিনি ছিলেন ব্যাপক আলোচিত। পরে তাকে এসপি হিসেবে রাজশাহীতে বদলি করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুরস্কার হিসেবে তাকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিও দেওয়া হয়। 

ওই এসপিদের মধ্যে আরেকজন শাহ মিজান শাফিউর রহমান। তিনি ২০১৮ সালে নির্বাচনের সময় ঢাকা জেলার এসপি ছিলেন। ২০১৪ সালে লক্ষ্মীপুরের এসপি হওয়ার পর থেকে চাকরিতে তার দ্রুত উন্নতি ঘটে। ২০তম ব্যাচের আরেক এসপি জিহাদুল কবির ২০১৮ সালে নির্বাচনের সময় চাঁদপুর জেলার এসপি ছিলেন। এর আগে তিনি ২০১২ সালে পুলিশ সুপার হিসেবে মাগুরা জেলার দায়িত্ব পান। পরে রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার এসপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মোহাম্মদ নূরে আলম মিনা ছিলেন চট্টগ্রামের এসপি। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হন। ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাশরুকুর রহমান খালেদ। পরে তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজির দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাদারীপুরের তৎকালীন এসপি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মোকতার হোসেন ছিলেন ভোলার এসপি। সেখানে কর্মরত থাকাকালে জড়িয়ে পড়েন নারী কেলেঙ্কারিতে। নারী কনস্টেবলের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের একাধিক অডিও ভাইরাল হওয়ার পরও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান। 

ইলিয়াছ শরীফ ছিলেন নোয়াখালীর এসপি। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি হন। জাহাঙ্গীর আলম সরকার ওই সময় ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার ঘটনায় তিনি ছিলেন ব্যাপক সমালোচিত। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় গাজীপুরের এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সামসুন্নাহার। এর আগে ওই জেলার এসপি ছিলেন ব্যাপক আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিএমপি ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জের এসপি টুটুল চক্রবর্তী একসময় কুমিল্লার এসপি ছিলেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়লেও তাকে সরাতে সক্ষম হয়নি তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। তিনি কুমিল্লার এসপি হলেও পুলিশ বাহিনীতে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনের আগে তাকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা