প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২২ ২২:২৯ পিএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২ ২২:৪০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা এমন অন্য কোনও নামে নয়, সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে পরিচয়ের দাবিই মুখ্য হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে।
মঙ্গলবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের আয়োজনে এই দাবি ওঠার পর তাতে রাজনীতিকদের মধ্য থেকেও সমর্থন জানানো হয়।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বক্তব্য দেন।
সকালে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। বক্তব্যের পাশাপাশি মাদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পর শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিবসের কর্মসূচি।
এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য হল ‘ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণ ও বিকাশে আদিবাসী নারীদের ভূমিকা’।
অনুষ্ঠানে সন্তু লারমা বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আদিবাসীদের পরিচয় হরণ করা হয়। সেই সংবিধানে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিবাসীদের বাঙালি নামে পরিচয় দেওয়া হবে। এরপর থেকেই বিগত ৫০ বছর যাবত আদিবাসীদের বিলুপ্ত করার জন্য বিভিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আদিবাসীদের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভূমি হারানোর যন্ত্রণা যিনি ভূমি হারিয়েছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ বোঝেন না। আজকে বাংলাদেশে এমন কোনো আদিবাসী পরিবার নেই, যেই পরিবার নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি, নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার পাশাপাশি সন্তু লারমা বলেন, সরকার অনেক গালভরা কথা বলে। পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নের নামে রাস্তাঘাট, পর্যটন ব্যবস্থা চালু করে সামরিক বাহিনীর স্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে। আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে তাদের ভূমিহীন করে দেওয়া হচ্ছে। সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সংরক্ষণে সরকারের তেমন কোনও পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাই না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। সাংবিধানিক অধিকার দাবির পাশাপাশি এতে রয়েছে- রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, ভূমি কমিশন আইন অবিলম্বে কার্যকর, স্বাধীন পূর্বসম্মতি ছাড়া ইকোপার্ক, সামাজিক বনায়ন, টুরিজম, ইপিজেড বা অন্য কোনও প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করা, রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন ইত্যাদি।
প্রবা/রাই