একশনএইডের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান বাংলাদেশের। ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হওয়ায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। উল্টো তারা ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নের নামে প্রায় ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের ফাঁদে জর্জরিত। অথচ ধনী ও জলবায়ু দূষণকারী দেশগুলোর থেকে দেশের পাওনা ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি একশনএইডের প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) একশনএইডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ‘হু ওজ হু’ নামের এ বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল’। এ প্রতিবেদনের সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে বিশ্বের ৫৪টি নিম্ন আয়ের দেশ বিদেশি ঋণের ফাঁদে জর্জরিত। দেশগুলো জাতীয় উন্নয়ন বিসর্জনের বিনিময়ে ধনী দেশগুলোর কাছে পরিশোধ করেছে ১৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, জলবায়ু দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর কাছে ১০৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণী ধনী দেশগুলো। যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর বিদেশি ঋণ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৭০ গুণ বেশি। সমীক্ষায় ৭০টিরও বেশি দেশের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৯২ সাল থেকে নিঃসরণ (২০১০ সালের মার্কিন ডলার সমতুল্যে) বিবেচনায়, ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে নিম্ন পরিসরের অনুমান অনুযায়ী ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জলবায়ু ঋণ পাওনা রয়েছে। মধ্য পরিসরের অনুমান অনুযায়ী (১৯৬০ সাল থেকে) এর পরিমাণ ৭ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে সবমিলে ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। ২০০৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্বের ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থ গেছে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পেছনে, যেখানে দেশের স্বাস্থ্যখাতে শুধু ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিক্ষাখাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
এ ব্যাপারে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নতুন প্রতিবেদনটিতে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বিদেশি ঋণের ফাঁদের চিত্র ফুটে উঠেছে। ধনী দেশগুলোর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ঋণ সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রত্যাহার এবং ঔপনিবেসিক ঋণ কাঠামো থেকে মুক্তির আহ্বান জানান তিনি। ফারাহ্ কবির বলেন, এ বছর ঋণ মওকুফে নতুন জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের জন্য চাপ দিতে হবে বৈশ্বিক দক্ষিণকে।