প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:০৩ পিএম
বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ছোড়ে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
মহার্ঘভাতাসহ সাত দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করে বাংলাদেশ আন্তবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি নিয়ে একটি মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। ঘোষণা দেন সমাবেশ শেষে দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে যাওয়ার। এতেই বাধে বিপত্তি। শাহবাগ এসে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনার পর শাহবাগের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে দেখা গেছে।
মিছিলটি ছত্রভঙ্গ
হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাদের ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে
যমুনায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তারা দাবি-দাওয়া নিয়ে যমুনায় যান।
প্রতিনিধিদলের
নেতৃত্ব দেন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসান
ও বাংলাদেশ ১৭-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতির সমন্বয়ক রফিকুল আলম। এদিন সকাল ১০টা
থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ শুরু করেন তারা।
এর আগে গত
৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সমাবেশের ঘোষণা দেন সংগঠটির
নেতারা।
তাদের ৭ দফা
দাবির মধ্যে রয়েছে- পে-কমিশন গঠন করে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে বেতন
বৈষম্য নিরসনসহ বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ও গ্রেড সংখ্যা কমাতে হবে। পে-কমিশনে
১১-২০ গ্রেডের কর্মচারী প্রতিনিধি রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ন্যূনতম ৬ হাজার
টাকা মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে। যেসব কর্মচারী নিজ গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির শেষ ধাপে
পৌঁছে গেছে তাদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত করতে হবে। বৈষম্যহীন এক ও অভিন্ন নিয়োগ
বিধি এবং আপগ্রেডেশন বা পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের
ক্ষেত্রে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদোন্নতি নীতিমালা পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ
সুবিধাপ্রাপ্ত অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্লক পোস্ট নিয়মিত করণসহ শতভাগ
পদোন্নতি দিতে হবে।
দাবিতে আরও
রয়েছে- সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর করতে হবে। সব
পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ এবং কর্মচারীদের
স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ব-স্ব বেসিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের
কমিটিতে রাখতে হবে। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয়
করে সব ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ ও ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের রেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন
অথবা ন্যায্য মূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে
বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের গ্রাচুইটির পরিবর্তে পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুইটি
বা আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের জায়গায় ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার
সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের অনুমোদনক্রমে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশন
এবং গ্রাচুইটির ওপর ভিত্তি করে ৪ শতাংশ গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণের সুবিধা রয়েছে। সরকার
ঘোষিত নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী লোন সুবিধা সাধারণ কর্মচারীগণ ভোগ করতে পারে না। সেই
নীতিমালা সংশোধন করতে হবে।