সংবাদ সম্মেলন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
শনিবার দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক।
শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী কেউই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না বলে মন্তব্য করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, সুব্রত, পিচ্চি হেলাল ও ইমনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আধিপত্য নিয়ে তারা বিরোধে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নানা অপকর্মে জড়ানোর তথ্য পাচ্ছি আমরা। এসব রেকর্ড হচ্ছে, মামলাও হচ্ছে। আমরা পেলেই ধরে ফেলব। কাউকে ছাড় দেবো না। আপাতত আমরা তাদের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করব।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আদাবরে বালুর মাঠে ছিনতাইকারীদের হাতে যুবকের কবজি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় চারজন, কোতয়ালীর কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয়জন, পল্টনে প্রাইভেটকার চালক সাজু মিয়া হত্যার মূল আসামি ও যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজ ছাত্র মিনহাজ হত্যায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় রেজাউল করিম মল্লিক সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, ঢাকাসহ সারাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করনীয় দরকার পুলিশ তা করছে। ছিনতাইকারী যারা বিঘ্ন সৃষ্টি করছে তাদেরকে ধরার জন্য আমাদের ডিবির স্পেশাল টিমগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। ছিনতাইকারী, অন্যায়কারী সবাইকেই আমরা আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব। আমার মনে হয়, আমরা অচিরেই সুফল পাব।’
জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে করা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিবি প্রধান বলেন, ‘পিচ্চি হেলাল বা ইমনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রুপের যেই থাকুক তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। ইতোমধ্যে এসব গ্রুপের কয়েকজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অবস্থান এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমাদের শতভাগ চেষ্টা চলছে। পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ৫টি ঘটনার ৪ টিই ছিনতাই সংক্রান্ত। তাহলে কি এটাই প্রমাণ করে যে, পুলিশের যে নিরাপত্তা বলয় তা বিঘ্নিত হচ্ছে? নগরবাসীর নিরাপত্তা দিতে কি পুলিশ ব্যর্থ? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বাভাবিক রাখা নিয়ে কাজ করছি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা যা করা দরকার পুলিশ তা করছে। ছিনতাইকারীরা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করছে। তাদের যে ছিনতাই প্রচেষ্টা তা রোধ ও গ্রেপ্তারে ডিবির সবগুলো ইউনিটসহ স্পেশাল টিমগুলো কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সুফল পাবে নগরবাসী।’
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘গত কয়েক মাসে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাজধানীসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। প্রতিদিনই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে গত কয়েকদিনে গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকটি অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হয়।
আদাবরে যুবকের কবজি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর আদাবরের ১০ নম্বর বালুর মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের চাপাতির কোপে সুমন শেখ নামে এক যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে ডিবি। এরই প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলমগীর, শাহজাহান, তরিকুল ইসলাম ও রাহাত হোসেন।
দনিয়া কলেজের ছাত্র মিনহাজ হত্যায় গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের ছাত্র মিনহাজুল হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ‘কিং মাহফুজ’গ্রুপের প্রধান মাহফুজ সরকারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই মিনহাজুল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি। গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন- জাহিদুল ভূঁইয়া শাওন, সাব্বির সরকার, আশিক ও সোহান মিয়া।
রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘নিহত মিনহাজুল যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার দনিয়া কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৬ জানুয়ারি দনিয়া কলেজে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিনহাজুলের সঙ্গে মাহফুজ ওরফে কিং মাহফুজসহ অন্য আসামিদের তর্কবিতর্ক হয়। পরে ২৮ জানুয়ারি বিকেলে মিনহাজ ও তার বন্ধু আহাদ দনিয়া কলেজের সামনে গেলে সেখানে কিং মাহফুজসহ অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুইচ গিয়ার, চাকু, চাপাতি, রাম দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে মিনহাজুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় মিনহাজুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় নিহত মিনহাজুলের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে ‘কিং মাহফুজ’সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে গত শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে এ ঘটনায় আরও দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘মিনহাজকে পূর্বশক্রতার জেরে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কিং মাহফুজ গ্রুপের রাজনৈতিক পরিচয় আমরা এখনও জানতে পারিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি, ঘটনার সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতা থাকুক আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’
পল্টনে প্রাইভেটকার চালক হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর পল্টনে বিজয়নগর বটতলা এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে জনৈক প্রাইভেটকার চালক সাজু মিয়া হত্যার ঘটনার মূল আসামি রোকন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গতকাল শনিবার কুমিল্লার কোতোয়ালির কাঁটাবিল চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোকন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ডিবি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘ছিনতাইয়ের উদ্দেশে সেদিন সাজু মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইলটি মতিঝিল এলাকার এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। সেদিন তার সঙ্গে আসিফুজ্জামান লিসান, মোহাম্মদ মিজান এবং মোহাম্মদ সজীব ছিলেন। ইতোমধ্যে লিসান ও সজীব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার রামপুরা এলাকা শামীম হোসেন নামে এক ছিনতাইকারীকে ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান বলেন, ‘শামীম উত্তরা ও গাজীপুর এলাকার চুরি ও ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় ছিনতাই ও ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনায় সাতটি মামলা রয়েছে।’
গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাতে আদালত ভবনের সামনে থেকে রাজীব দাস নামের এক গহনার দোকানিকে মারধর করে এক কেজি স্বর্ণ লুটের ঘটনায় পটুয়াখালীর বাউফল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান রেজাউল করিম মল্লিক। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, সবুজ হাওলাদার, আল আমিন খান, তরিকুল ইসলাম, শফিকুল রহমান চুন্নু ও আজিম উদ্দিন। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯২৮ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করার কথাও জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।