প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে আগামী ৯০ দিনের জন্য ইউএসএআইডিসহ বিদেশে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে (এনজিও) অর্থ সহায়তা বন্ধ করেছেন। তবে এ অবস্থায়ও বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম বন্ধের যে সিদ্ধান্ত
দিয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা
কার্যক্রম তার আওতায় পড়বে না বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
সে কারণে প্রধান উপদেষ্টা
মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে
রবিবার সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, ঢাকায়
মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এদিন বিকালে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত
বিষয়াবলী সংক্রান্ত উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে এই ছাড়ের
বিষয়ে অবহিত করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র
২৫০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে দিয়েছে ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের
বেশি।
প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস
সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৯০ দিন বিদেশে অর্থ সহায়তা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য তারা যে সহায়তা দেন, সেটা বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছেন।’
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে
সরকার এ বছরই বড় আকারে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করবে জানিয়ে অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এতে ১৭০টি দেশ অংশ নেবে। জাতিসংঘ এই সম্মেলনের সহ-আয়োজক।’
ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের
অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন
সব প্রকল্প ও কর্মসূচির ব্যয় অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউএসএআইডির বাংলাদেশ
কার্যালয়ের পরিচালক রিচার্ড অ্যারন শনিবার সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সব স্থানীয় উন্নয়ন
সংগঠনের জন্য এ নির্দেশনা জারি করে চিঠি দেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত চুক্তির
আওতাধীন সব প্রকল্প ও কর্মসূচির মার্কিন অংশের ব্যয় বন্ধ রাখতে বলা হয় সেখানে।