ফায়ার সার্ভিসের তথ্য
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:১৩ পিএম
প্রবা ফটো
বছরের অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালে অগ্নিদুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়ায়। শীতকালে দাহ্য বস্তুগুলো শুকিয়ে থাকে। ফলে ভেতর থেকে জ্বলে ওঠার জন্য প্রস্তুত থাকে। কোনোভাবে একটু উত্তপ্ত হতে পারলেই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ সময় সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিস
বলছে, শীতে বাতাসে জলকণা কম থাকে। যে কারণে ফায়ার জেনারেটিং ফিল্ড তৈরি হয়। ঠান্ডা
ও কুয়াশা আগুন প্রতিরোধে কাজ করে না উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিস জানায়, অনেক ক্ষেত্রে
সুইচ বোর্ড ও এসির সংযোগস্থলে কানেকশন লুজ থাকায় শর্ট সার্কিট ঘটে। কাজ শেষে মাল্টিপ্লাগের
সুইচ অফ না করলেও ভোল্টেজের লোডের কারণে অনেক সময় সেটা উত্তপ্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ড
ঘটেছে ২৪ হাজার ৪৭৮টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে দুই হাজারের বেশি আগুন লেগেছে। সাধারণত
ডিসেম্বর থেকে মার্চÑ এই ৪ মাসে অগ্নিদুর্ঘটনা বেশি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল ২৭ হাজার ৬২৪টি।
২০২২ সালে ২৪ হাজার ১০২টি, ২০২১ সালে ২১ হাজার ৬০১টি, ২০২০ সালে ২১ হাজার ৭৩টি, ২০১৯
সালে ২৪ হাজার ৭৪টি ও ২০১৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ৬৪২টি। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি
থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে ২৪ হাজার ৪৭৮টি। গড়ে প্রতি মাসে ২
হাজারের বেশি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২১ সালের পর প্রতিবছর তিন হাজারের
বেশি দুর্ঘটনা বেড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের
মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩৭২টি। ফেব্রুয়ারিতে
৩,০০০, মার্চে ৩,৫১৯, এপ্রিলে ৩,৪২৭, মে মাসে ৩,৬১১, জুনে ১,৯৪৭, জুলাইয়ে ১,৩৭৬, আগস্টে
১,৮৯৭, সেপ্টেম্বরে ১,২৯১, অক্টোবরে ১,১৮৯ ও নভেম্বরে ১,৩৮৯টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। পরিসংখ্যান
অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত আগুনের ঘটনা বেশি। আর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত
সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ কমে আসে।
২০২০ থেকে ২০২৩
সাল পর্যন্ত ৩ বছরের তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৭ মাসে আগুন লাগে ৫২
হাজার ৭৫৩টি। যেখানে একই সময়ে ৫ মাসে আগুনের ঘটনা অর্ধেকেরও কম অর্থাৎ ২০ হাজার ৫৩৪টি।
২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি আগুন লাগে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। শীতের সময়সহ মাত্র ৪ মাস
সতর্ক থাকলে অগ্নিদুর্ঘটনা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিসের
উপপরিচালক (মিডিয়া) শাহজাহান শিকদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সাধারণত ডিসেম্বর
থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ৪ মাসে বেশি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। শীতকালে সব ধরনের দাহ্য বস্তু
শুকিয়ে যায়। এ প্রাকৃতিক শুষ্কতা আগুন লাগার পরিবেশ তৈরি করে। এ ছাড়া শীতের সময়ে চুলা
জ্বালিয়ে রাখা, লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানো, ধূমপান করাসহ নানা কারণে আগুন বেশি লাগে।
ফলে শীতসহ অন্তত ৪ মাস অধিক সতর্ক ও সাবধান থাকলে আগুনের ঘটনা অর্ধেকের বেশি কমে আসবে।
এক্ষেত্রে শীতের আগে আগে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দেশের সব মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে
সতর্কতামূলক বার্তা পাঠানো হয়ে থাকে।’
তিনি আরও বলেন,
‘জনসাধারণকে এই সময়ে অধিক সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি কারাখানাসহ বড় স্থাপনাগুলোয় স্মোক
ডিটেকটর ও অটো ইলেকট্রনিক সিস্টেম স্থাপন করতে হবে। যেন আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গেই অটোমেটিক
ইলেকট্রিক প্যানেলে সংকেত দেয়। সেই সঙ্গে সার্বক্ষণিক পাহারাদার বা নিরাপত্তারক্ষী
রাখতে হবে। যেন অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই নিরাপত্তারক্ষী প্রাথমিকভাবে নেভানোর চেষ্টা করতে
পারে বা ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস
ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন একাধিক অগ্নিদুর্ঘটনা
ঘটেছে। বেশ কয়েকটিতে হতাহতেরও ঘটনা ঘটেছে। ২৫ ডিসেম্বর রাতে সচিবালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনা ঘটে। এতে ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলা থেকে ৯ তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোরের ২০০টি কক্ষ মারাত্মকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ২২ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে এম অ্যান্ড ইউ ট্রিমস লিমিটেড
নামের বোতাম কারখানায় আগুনে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর বনানী বস্তিতে
ভয়াবহ আগুন লাগে।
২০ ডিসেম্বর উত্তরার
লাভলীন বাংলা রেস্টুরেন্টে আগুন লেগে বেশ কয়েকজন আহত হয়। একই দিন নাটোরের বড়াইগ্রামে
আগুনে পুড়ে আলিজা খাতুন নামের ৯ মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়। ১৯ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে
আলী আহমদ সুপার মার্কেটে আগুন লাগে। ১৮ ডিসেম্বর মহাখালীর কড়াইল আদর্শনগর বস্তিতে আগুন
লাগে। ১৭ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাহিন স্পিনিং মিলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ১১
ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে গ্রিন লিফ নামের ফিলিং স্টেশনে গ্যাস রিফিলের সময় বাসের সিলিন্ডার
বিস্ফোরণে ৫ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় গ্যাস
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ গতকাল
শুক্রবার রাজধানীর হাজারীবাগ কাঁচাবাজার-সংলগ্ন ফিনিক্স লেদার নামক একটি কারখানার গুদামে
অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আড়াই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে
আসে।