প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:২৬ পিএম
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:২১ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে সন্তান ও অভিভাবক ফোরাম আয়োজিত স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে। প্রবা ফটো
‘প্রতি আঠারো তারিখ আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। এ তারিখ আসলেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়। আগামীকাল আমার সন্তানের শাহাদাতের ৬ মাস পূর্ণ হবে’- এসব বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে সন্তান ও অভিভাবক ফোরাম আয়োজিত স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে এমনই স্মৃতিচারণ করেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।
একই অনুষ্ঠানে ছাত্র আন্দোলনে শহীদ বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফের মা সাফাত সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাওয়ায় বেশি কথা বলেন বলে ক্ষুব্ধ হয়েছেন আইন উপদেষ্টা। আমি যখন আইন উপদেষ্টাকে বললাম, আমার সন্তান হত্যার খুনিরা এখনও বাইরে, তারা কার মদদে এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা কীভাবে এখনও দেশের বাহিরে যাচ্ছে এসব কি দেখেন না? তখন আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এসব আমার দায়িত্ব না, এসবের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। আমার কাছে এসবের জন্য আসেন কেন, এসবের জন্য আমাকে বলবেন না।’”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় কবি পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমাদের এ স্কলারশিপ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো আহত শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবার কিংবা অন্য কারো ওপর যাতে নির্ভর না হয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত সকলের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন। আয়োজকদের এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আহত শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশন) তহমিনা আক্তার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক মোহনা আক্তার, এসওএফের অন্যতম সমন্বয়ক ডা. দলিদুর রহমান ও ডা. ইশরাত জাহান প্রমুখ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত অনেকেই পা হারিয়ে কিংবা হাত হারিয়ে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। কেউ চোখ হারিয়েছেন। একদিকে যেমন সীমিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে তাদের শিক্ষা কিংবা কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের কথা চিন্তা করে সন্তান ও অভিভাবক ফোরাম (এসওএফ), বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) ও কোয়ালিটি লাইফ ফাউন্ডেশন (কিউএলএফ) যৌথভাবে ১০০ জনের মাঝে বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ জনকে শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়া অব্দি প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা প্রদান করবে এবং পরবর্তীতে বাকি ৭০ জনকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।