× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিআরটিএ বন্ধের হুঁশিয়ারি সড়ক উপদেষ্টার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৫০ পিএম

বিআরটিএ বন্ধের হুঁশিয়ারি সড়ক উপদেষ্টার

অবস্থার উন্নতি করতে না পারলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) বন্ধের কথা চিন্তা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বিআরটিএকে প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সময়মতো লাইসেন্স দেওয়ার কাজ বিআরটিএ করতে না পারায় তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে করা হবে। এছাড়া সড়কে ত্রুটির জন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সওজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বিআরটিএ ভবন পরিদর্শন ও কনফারেন্স রুমে রোড সেফটি বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নিজেদের অবস্থার উন্নতির জন্য এক মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক আলোচনা সভা শেষে এই সময় বেঁধে দেন তিনি, যা প্রায় শেষের দিকে। এই সময়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি করতে পারলেও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে যেতে পারেনি বিআরটিএ।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বিআরটিএর কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, তারা যে আচরণ করছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি তাদের এটাও বলেছি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিআরটিএ-এর কাজের যদি উন্নতি না হয়, তাহলে আমরা বিআরটিএ বন্ধ করে দেওয়ার কথা চিন্তা করব। বিআরটিএকে প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এটাকে আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, বিআরটিএতে এখনও সাড়ে চার লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স অপেক্ষমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়েছে। সে লাইসেন্সগুলো আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দিয়ে দেওয়া হবে।

বিআরটিএ সময়মতো লাইসেন্স দিতে না পারায় সড়ক পরিবহনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে সভায় অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য কাজ দেওয়া হবে। এ ছাড়া এখন থেকে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকেও লাইসেন্স প্রদানের কাজ দেওয়া হবে।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস ইস্যু করার প্রক্রিয়া অনেক জটিল। তাই এখন থেকে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থাটা সহজ করা হবে এবং কার্যকরী করা হবে। এ জন্য আমরা প্রথমেই চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছি। আমরা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সনদ পেতে সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি তা দ্রুততম সময়ে কার্যকর করা হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সনদ নির্ধারিত সময়ে নবায়ন না করলে তা বাতিল বলে ঘোষণা করা হবে। মোটরসাইকেলচালকদের শিক্ষানবিশ সনদের মেয়াদ এক মাস। পরে তা নবায়ন না করলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। 

সড়ক, মহাসড়কে দুর্ঘটনার দায় এখন থেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের কাঁধেও এসে পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, স্পষ্ট করে বলছি, সড়কে দুর্ঘটনার জন্য যদি কোনো সড়কে ত্রুটি দায়ী হয়, তবে সওজের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি দেখা যায় বাসচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির ফিটনেস সনদ নেই, তবে সে ক্ষেত্রে দায় বর্তাবে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের ওপর। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের গাফিলতি থাকলে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে।

বিআরটিএর কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করে সড়ক উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে সরাসরি সেবা দেয় এমন কিছু প্রতিষ্ঠান গত ৫ আগস্টের পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু সেটা আশানুরূপ নয়। বিআরটিএ যদি তাদের কার্যক্রমে গতি না আনে, তবে এ প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে বিআরটিএকে নিয়মিত মনিটরিংয়ে রাখব। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয় দ্রুততম সময়ে দিতে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন সড়ক উপদেষ্টা।

সড়ক দুর্ঘটনার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আমাদের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত দিয়েছে। গত বছর সারা দেশে ৭ হাজার ২৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যা আগের বছরের থেকে ১২ শতাংশ বেশি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া পর সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারিনি, এর জন্য দায় নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, জীবনের কোনো মূল্য হয় না। কিন্তু অপরাধ স্বীকারের অংশ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা