× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুর্নীতির অভিযোগ

দুইবার আবেদন করেও মাল্টার নাগরিকত্ব পায়নি তারিক সিদ্দিকের পরিবার

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৯ পিএম

দুইবার আবেদন করেও মাল্টার নাগরিকত্ব পায়নি তারিক সিদ্দিকের পরিবার

ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টার নাগরিকত্ব চেয়ে শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা এবং যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের চাচা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের পরিবারের সদস্যদের করা আবেদন দুইবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘অর্থপাচার, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ঘুষের’ অভিযোগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের কারণে তাদের নাগরিকত্বের আবেদন খারিজ করা হয়েছে বলে ফাঁস হওয়া কিছু নথির বরাতে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপের চাচি শাহীন সিদ্দিকের আবেদন ২০১৩ সালে খারিজ করে দেয় মাল্টায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের কাছে থাকা নথির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে অবৈধভাবে জমি দখলের একটি অভিযোগের সঙ্গে শাহীন সিদ্দিকের সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ করে তার মাল্টার নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তারিকের পরিবার কীভাবে ওই অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারও বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০১২ সালে ঢাকায় জমি দখলের অভিযোগ ওঠে প্রচ্ছায়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রচ্ছায়ার চেয়ারম্যান ছিলেন শাহীন সিদ্দিক। ২০১৩ সালে শাহীনের করা পাসপোর্টর আবেদনে প্রচ্ছায়ার কথা উল্লেখ আছে।

শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচকদের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে প্রচ্ছায়ার জন্য জমি দখল করেন।

নথিপত্রে দেখা গেছে, শাহীন ২০১৩ ও ২০১৫ সালে মাল্টার পাসপোর্টের জন্য দুটি আবেদন করেন। দ্বিতীয় আবেদন ছিল লন্ডনে থাকা মেয়ে বুশরা সিদ্দিকের সঙ্গে যৌথভাবে। বুশরাও প্রচ্ছায়ার একজন পরিচালক ছিলেন।

আবেদনের অংশ হিসেবে শাহীন কুয়ালালামপুরের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণী জমা দেন। এতে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৪০৯ ডলার ডলার জমা দেওয়া হয়েছে। আগের দুই মাসে মোট ১১টি লেনদেনের মাধ্যমে ওই অংকের নগদ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। নথিতে অবশ্য ওই অর্থের উৎস নির্দিষ্ট করা নেই।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এক বছরে কেউ বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার ডলারের বেশি বাইরে নিতে পারে না।’

বুশরা সে সময় লন্ডনে পড়াশোনা করছিলেন। পাসপোর্ট আবেদনে তার ঠিকানা দেওয়া ছিল সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের কাছের একটি বাড়ির, যেখান থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে কিংস ক্রস এলাকায় শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের ফ্ল্যাট।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৪ সালে টিউলিপকে ওই ফ্ল্যাটটি বিনামূল্যে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট এক আবাসন ব্যবসায়ী।

২০১৩ সালে শাহীনের মাল্টার নাগরিকত্ব চেয়ে করা আবেদন হেনলি সরাসরি বাতিল করে দিয়েছিল।  সংশ্লিষ্ট একটি ইমেইলের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত সংবাদে প্রচ্ছায়ার ‘অর্থপাচার, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ঘুষের’ সঙ্গে তিনিও জড়িত ছিলেন।

দুই বছর পর মেয়ে বুশরাত সঙ্গে যৌথভাবে করা আবেদনে শাহীন সিদ্দিক প্রচ্ছায়ার কোনো উল্লেখ করেননি। এবার তিনি তার প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রামে ‘দ্য আর্ট প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড’ নাম ব্যবহার করেন।

এই আবেদনের বিষয়ে হেনলির এক কর্মী একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে বলেন, ‘যদিও কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি’, মাল্টার কর্তৃপক্ষের জন্য ওই কোম্পানি সম্পর্কে আরও তথ্যের প্রয়োজন।

ইমেইলের জবাবে আরেক কর্মী লিখেছেন, আর্ট প্রেস ‘১৯২৬ সালে মিসেস শাহীন সিদ্দিকের দাদার শুরু করা ব্যবসা’। মিসেস শাহীন এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (২০১৩ সাল থেকে)।

ফাঁস হওয়া ২০১৫ সালের শেষদিকের একটি নথিতে শাহীনের নাম ‘আবেদন বাতিল এবং/অথবা প্রত্যাখ্যাত’ আবেদনকারীদের তালিকায় দেখা গেছে। মাল্টার সরকারি গেজেট নিশ্চিত করছে যে, শাহীন বা বুশরা কেউই মাল্টার পাসপোর্ট পাননি।

মাল্টার নাগরিকত্বের আবেদনের বিষয়ে বুশরা সিদ্দিক ও শাহীন সিদ্দিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। তবে, হেনলি নিশ্চিত করেছে তাদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। 

এদিকে, তারিক আহমেদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুমের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা