× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাজার পরিস্থিতি

বিয়েশাদির চাপে আবার বেড়েছে মুরগির দাম

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৫ ০৯:৫০ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছিল। তারপর কিছুটা কমে গিয়ে এখন আবারও বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালি মুরগির বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের কারণে বাজারে মুরগির চাহিদা বেড়ে যায়। তা ছাড়া শীতে উৎপাদনও কম হয়। এসব কারণেই দাম বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কাঁচাবাজারের মেসার্স বিপ্লব ট্রেডার্সের বিক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহে এই বাজারে গড়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫-২০০ টাকা কেজি। ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। তিনি বলেন, শীতে এমনিতেই মুরগির উৎপাদন কম হয়। এখন আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে অর্ডার বেশি। এতে করে দাম বেড়ে গেছে। 

বাজারটিতে দেখা যায় ডিমের দাম অন্যান্য বাজারের চেয়ে কিছুটা কম। ডিম ব্যবসায়ী মফিজুল হক বলেন, ফার্মের সাদা রঙের ডিম ১২৫ টাকা ও লাল রঙের ১৩০ টাকা ডজন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সরাসরি খামারিদের কাছ থেকে ডিম নিয়ে আসি। এতে দাম অন্যান্য স্থানের চেয়ে কিছুটা কম পড়ে। 

মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ১ নম্বর সোনালি মুরগি আমাদের কিনতে হচ্ছে ৩৩০-৩৪০ টাকায়। সেগুলো বিক্রি করতে হয় ৩৭০-৩৮০ টাকায়। তা ছাড়া ২ নম্বর সোনালি মুরগিও ৩৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমরা সরাসরি বগুড়া থেকে মুরগি আনি। কয়েকজন বিক্রেতা মিলে এক বা দুই গাড়ি নিয়ে আসি। পরে ভাগ করে নিয়ে যাই। এতে কেনা দাম কিছুটা কম পড়ে। তা ছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। 

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০-২১০ টাকা হলে তাকে যৌক্তিক ধরা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার। তিনি বলেন, এর আগে ১৮০ টাকা বা তার চেয়েও কম দামে মুরগি বিক্রি করেছেন খামারিরা। এতে অনেকের লোকসান হয়েছে। এখন খামার পর্যায়ে ১৫০-১৬০ ও খুচরায় ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হলে সেটা যৌক্তিক দাম হবে। 

তিনি বলেন, একটি ব্রয়লার মুরগির বাচ্চায় হ্যাচারিওয়ালাদের খরচ হয় ২৬-৩০ টাকা। সেটি খামারিদের কিনতে হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকায়। সোনালি মুরগির বাচ্চার উৎপাদন ব্যয় ২০-২২ টাকা। খামারিদের সেই বাচ্চা কিনতে হয় ৫০ টাকায়। কখনও ৭০-৭৬ টাকাও দিতে হয়। লেয়ার (ডিম পাড়া) মুরগির বাচ্চার উৎপাদন ব্যয় ২৪-২৬ টাকা। বাচ্চা কিনতে হয় ৭০-১০০ টাকায়। দেশে চার ধরনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হলেও সরকার শুধু ব্রয়লার ও লেয়ারের দাম নির্ধারণ করেছে। ব্রয়লার ৪৯ ও লেয়ার বাচ্চা ৪০ টাকা দাম ধরা আছে। কিন্তু বাজারে এই দামে বাচ্চা পাওয়া যায় না। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির এক বস্তা ফিডের দাম ৩ হাজার ৬০০ ও লেয়ারের ৩ হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম কমলেও ফিডের দাম কমানো হচ্ছে না। 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, আমদানি ও দেশি রসুন ২৪০ টাকা, নতুন ও পুরোন আলু ৪০ ও ৫০ টাকা। টমেটো ৪০-৫০ টাকা, সাধারণ মানের শিম ২০-৩০, কাঁচামরিচ ৪০-৫০, শালগম ৪০, মুলা ২০, লম্বা বেগুন ৩০, গোল বেগুন ৬০, পেঁপে ৪০, শক্ত বিচির শিম ৬০ ও শুধু বিচি ১২০ টাকা। প্রতি পিস ফুলকপি ২০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫-৩০ টাকা। সবজি বিক্রেতারা জানান, ফুলকপির দাম কমলেও বিক্রি কম। বাজারে বাঁধাকপির যথেষ্ট চাহিদা আছে, কিন্তু সরবরাহ কম। 

মাছ বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বড় আকারের তেলাপিয়া ২০০ টাকা কেজি, পাঙাশ ১৫০ টাকা, রুই ২৪০-২৫০, ছোট আকারের তেলাপিয়া ১৬০, শিং ৩২০ টাকা ও ৪টায় কেজি ওজনের ইলিশ ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। 

মহাখালী বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়, আলু ৪০-৫০, পেঁপে ৩৫-৪০, বেগুন ৪০-৬০, টমেটো ৭০-৮০, কাঁচা টমেটো ৪০-৫০, কাঁচামরিচ ৮০, মুলা ২০, সাধারণ শিম ৩০ ও শক্ত বিচিসহ ৬০ টাকা, শসা ৫০-৬০, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা। করলা-উচ্ছে ৯০ টাকা, কচুরমুখি ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা, ফুলকপি ২০-৩০ ও বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। সবজি বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, পেঁপের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা