প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৫৮ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২৩:০৫ পিএম
ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের চার নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছে মেঘালয় পুলিশ। বাহিনীটি বলছে, ধর্ষণের অভিযোগে নয়, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চারটি ধারা এবং বিদেশি আইনের ১৪ নম্বর ধারার অভিযোগে।
এ বিষয়ে মেঘালয় পুলিশের মহাপরিচালক ইদাশিশা নংরাং বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ডাউকি থানায় তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চারটি ধারা এবং বিদেশি আইনের ১৪ নম্বর ধারায় অভিযোগ ছিল। সেই মামলাতেই কলকাতা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে আনা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, যেসব ধারায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তার মধ্যে আছে- অস্ত্র দিয়ে হামলা (আগ্নেয়াস্ত্র নয়), হামলার জন্য জমায়েত হওয়া, এক লাখ টাকার কম পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধনের মতে অভিযোগ। এ ছাড়া অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগও আনা হয়েছে।
গত রবিবার কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলকাতা পুলিশের সহায়তায় শিলং পুলিশ আওয়ামী লীগের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানায় আনন্দবাজার পত্রিকা।
তারা হলেন– সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সিলেট মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি আব্দুল লতিফ রিপন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ইলিয়াস আহমদ জুয়েল।
তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে বলে যে তথ্য কিছু সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মেঘালয় পুলিশের ডিজি ইদাশিশা নংরাং।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ওই চারজনের বিরুদ্ধে ডাউকি থানার একটা মামলা ছিল। কোনো ধর্ষণের অভিযোগ নেই এদের বিরুদ্ধে।’
একই মামলায় আরও দুই আওয়ামী লীগ নেতার নাম আছে। তারা হলেন- সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসার আজিজ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ মিঠু।
পুলিশের বরাতে বিবিসি বাংলা লিখেছে, ৫ আগস্টের পর তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতের মেঘালয়ে বসবাস করছিলেন বলে মেঘালয় পুলিশের কাছ থেকে বিধাননগর পুলিশ জানতে পারে। ডাউকি সীমান্তে ট্রাক চালকদের সঙ্গে অক্টোবর মাসে হাতাহাতির মামলায় তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এ বিষয়ে মেঘালয়ের পত্রিকা দ্য শিলং টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জৈন্তা পাহাড়ি জেলার ডাউকিতে স্থানীয় ট্রাক চালকদের সঙ্গে মারামারির অভিযোগে গত মাসে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় কলকাতায় আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।