সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক সদস্যদের সমাবেশ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা। তাই দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিকে কোনো অবস্থাতেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না সাফ জানিয়ে দিয়ে তারা বলেন, ‘ভারত প্রশ্নে কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে সাম্যতার ভিত্তিতে।’
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবের সামনে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদ’–এর ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এ কথা বলেন।
ভারতের জনগণের সঙ্গে এ দেশের মানুষের কোনো শত্রুতা নেই মন্তব্য করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘তারা (ভারতের জনগণ) এ দেশের মানুষের বন্ধু। কিন্তু ভারতের গেরুয়া পোশাকধারী হিন্দু আধিপত্যবাদকে কোনোভাবেই এ দেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিভাজন, ধর্ম, দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান শস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা। বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং ছাত্র-জনতাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি ভারত প্রশ্নে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বদলে সমতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করতে হবে।’
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদ-এর আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) লুৎফুল হক।
আহসানুল্লাহ বলেন, ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকে কোনো অবস্থাতেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, সাম্যতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে। ভারতের জনগণের সঙ্গে এ দেশের মানুষের কোনো শত্রুতা নেই, তারা এ দেশের মানুষের বন্ধু। কিন্তু ভারতের গেরুয়া পোশাকধারী হিন্দু আধিপত্যবাদকে কোনোভাবেই এ দেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হজরত শাহজালাল (রা.), হজরত শাহ মখদুম (রা.), অতীশ দীপঙ্কর, শ্রীচৈতন্য, অনুকূল ঠাকুর, লোকনাথ ব্রহ্মচারী প্রমুখের আবাসভূমি এই বাংলাদেশ। আমরা যুগ যুগ ধরে এই শ্যামলভূমিতে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছি। কিন্তু অতি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, সম্প্রতি বাংলাদেশের “লেডি ফেরাউন” পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতের হিন্দু নেতৃত্বের শ্যেনদৃষ্টি পড়েছে আমাদের দিকে। তাদের ইদানীংকালের কর্মকাণ্ড এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।’
‘তাদের (হিন্দু নেতৃত্বের) সর্বশেষ উদ্যোগ ছিল আগরতলা এবং কলকাতার বাংলাদেশি মিশনে আক্রমণ চালানো এবং আমাদের বাংলাদেশের পতাকাকে অবমাননা করা। আমরা এই ঘটনাগুলোকে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে মনে করছি,’ বলেন তিনি।
আহসানুল্লাহ আরও বলেন, ‘ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো দূতাবাসে হামলার অর্থ সেই দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যখন সার্বভৌমত্বের ওপরে হামলা হয়, দেশের পতাকা পদদলিত হয়, তখন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা চুপ থাকতে পারেন না। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে।’
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান বলেন, ‘মোদিজি (নরেন্দ্র মোদি), অমিতজি (অমিত শাহ) এবং রাজনাথজি (রাজনাথ সিং)—আপনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যেটা দেখেছেন, সেটি বাহাত্তর সালের। সেই সেনাবাহিনী এখন আর নাই। আমরা এখন যেকোনো শত্রু মোকাবিলায় প্রস্তুত। আপনারা আর আস্ফালন তুলবেন না, ভয় দেখাবেন না। আপনাদের সীমান্তেই রুখে দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ১৭ কোটি জনতা আছে।’
সমাবেশ শেষে রাওয়া ক্লাব থেকে একটি মিছিল বের হয়। বিমানবাহিনী স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত গিয়ে আবার রাওয়া ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি।