প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:৫৯ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:১৩ পিএম
কৃষি গবেষণার ফলাফল চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে কৃষকের কাছে পৌঁছানো দরকার। আমাদের জমিতে কতটুকু সার দিতে হবে তা টবে না করে কৃষকের জমিতে গিয়ে করতে হবে বলে আহ্বান জানিয়ে কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, আমরা গবেষণার জন্য জায়গায় দেই আর সেখানে গবেষকরা বিল্ডিং তৈরি করে। তারা গাড়ি চায়। তখন দেখা যায় গবেষণার আসল কাজই হয়তো হলো না। আমরা বলেছি এসব আর হবে না। প্রকৃত পক্ষেই দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজে আসে এমন গবেষণা করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব গবেষণার ফলাফল কৃষকের কাছে দ্রুত নিয়ে যেতে হবে। শুধু সভা, সেমিনার আলোচনা করে চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। দ্রুত ছড়িয়ে দিতে হবে। গবেষণা হবে কৃষকের জন্য কৃষকর জমিতে গিয়ে টবে গবেষণা করলে হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মিলনায়তনে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ২০২৪ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি ড. জাউকিন শি।
বক্তব্য রাখেন- কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. বেগম সামিয়া সুলতানা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম জহির উদ্দিন ও প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম শামছুদ্দোহা ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইনুল আহছান প্রমুখ।
উপদেষ্টা বলেন, দেশের বেকারত্বের হার হ্রাসে কৃষিখাতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের কৃষির উপর নির্ভরশীল ৭০ শতাংশ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারলে সত্যিকারের বৈষ্যমমুক্ত সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কৃষি খাতে প্রায়োগিক গবেষণা বাড়াতে হবে। প্রতিটি গবেষণার ফলাফল কৃষক পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। দেশের বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি জমি রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, শিল্পায়নের নামে যাতে উর্বর কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে না যায়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
আমরা মাটি বেশি পরিমাণ সার দিচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাটিতে অধিক রাসায়নিক সারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক সার দিতে হবে। অথচ আমরা প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৮৪ কেজি সার দিচ্ছি। এটি পার্শ্ববর্তী দেশের তো বটেই বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা প্রতি বছর সার খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে আসছি। সার বরাদ্দের শর্তে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই ভর্তুকি কতদিন চলমান রাখা সম্ভব তাও ভাবনার বিষয়। কিভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো যায়, সে সম্পর্কে গবেষণা জোরদার করতে হবে।
উপদেষ্টা জলাধার রক্ষা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বনভূমি রক্ষা ও নতুন বনায়ন করা, যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন করা, মাটির সঠিক ব্যবহার এবং পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতি আমাদের কৃষিবিদদের অধিকতর যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে, যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে। পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য নেওয়া হয়েছে নানা প্রকল্প। এ সকল কার্যক্রমের সাফল্য নির্ভর করবে মাটির সুস্বাস্থ্যের ওপর। যেহেতু ক্রমাগতভাবে আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে এবং আবাদি জমির পরিমাণ কমছে, তাই উন্নত জাত ও ফসল নিবিড়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক খাদ্য উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, মাটি ভালো না থাকলে কোনো গতি নেই। বর্তমানে দেশে ৪টি বিভাগে মাটি গবেষণার অফিস আছে, এখন নতুন করে ময়মনসিংহ বিভাগে অফিস করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব আরো বাড়ানো হবে। তার আগে যা আছে তা শতভাগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিখাতকে এগিয়ে আনতে হবে। এখাতই পারে বেকারত্ব দূর করে সকলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এজন্য গবেষক ও কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। সেখানে প্রয়োজনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা হবে।