প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:৫২ পিএম
ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে আগামী বছরের মার্চ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ১৭ লাখ তথ্য আমাদের হাতে আছে, ১ জানুয়ারি ২০২৫ যেটা সন্নিবেশ করব। এরা নতুন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হবেন। তবে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, এই ডেটাটা সবসময় পূর্ণাঙ্গ হয় না। কারণ অনেকেই অফিসে এসে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন না।’
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই সংখ্যাটা আনুমানিক ৪৫ লাখ হতে পারত। আমাদের হাতে যে ১৭ লাখ ডেটা আছে তার মধ্যে ১৩ লাখ ডেটা ২০২২ সালে সংগ্রহ করেছিলাম। আর মাত্র চার লাখ বিভিন্ন অফিসে এসে এ বছর ভোটার নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ আমরা দেখতে পারছি কমবেশি ২৭ থেকে ২৮ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হননি, কিন্তু ভোটার হওয়ার যোগ্য।’
‘এই বাস্তবতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের এই বছরের যে হালনাগাদ প্রক্রিয়া... সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। ২ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশের পর শুনানি, দাবি-আপত্তির পর ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা বাদ পড়ল আমরা চাই যে, তারা আমাদের ভোটার তালিকায় সন্নিবেশিত হোক। এ জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করব,’ যোগ করেন তিনি।
ইসি আরও বলেন, ‘এই বাদ পড়া ভোটাররা ছাড়াও ২০২৫ সালে যারা ভোটার হবেন, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন তাদের তথ্য আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করব। এতে করে আমরা যে সুবিধা পাব বলে মনে করছি- আমাদের ভোটার তালিকাটি আমরা চেক করে নিতে পারব, বাড়ি বাড়ি গেলে মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া সহজ হবে, ডুপ্লিকেশন থাকলে বা কোনো সমস্যা থাকলে তা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারব। বাড়ি বাড়ি গেলে আমাদের ছয় মাস হয় তো সময় লাগবে। এই ছয় মাস সময়ের সঙ্গে আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কোনো সম্পর্ক নাই।’
তিনি জানান, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি শুদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা; যেখানে সঠিকতা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারবেন। পাশাপাশি ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬- এ যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য তারা কেউ যেন বাদ না পড়েন।
বাড়ি বাড়ি হালনাগাদ কবে থেকে শুরু করা হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আবুল ফজল বলেন, ‘এটি সচিবালয় থেকে ঠিক হবে। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শুরু করা যায়। ১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত যে হালনাগাদ সেই কার্যক্রম ২ মার্চ ২০২৫ এ শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাদের হাতে কিন্তু একটি ভোটার তালিকা থাকবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা আবার বাড়ি বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা এই জন্য বোধ করছি... আমরা ধারণা করছি- ২৫ থেকে ২৭ লাখ ভোটার যারা অফিসে এসে নিবন্ধিত হননাই। আমরা চাই এরা নিবন্ধিত হোক। সে জন্য বাড়ি বাড়ি যাওয়া। আর যেহেতু আমরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি সেহেতু আগামী বছরের তথ্যও আমরা নিয়ে নেব। ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নেব।’
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি সচিবালয় থেকে আপনাদেরকে ব্রিফ করবে। আমরা যেটা ধারণা করছি ২ মার্চের পরেই আমরা শুরু করতে পারব। ২ মার্চ পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রমটা শেষ করতে হবে।’
নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই নিয়ে আজকে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি। এটি নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি।’