নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২২ ২০:৫৯ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২ ১১:২০ এএম
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। ছবি সংগৃহীত
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বাঙালির সব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী সোমবার (৮ আগস্ট)। ১৯৩০ সালের এদিনে তিনি তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহাকুমা জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগমের এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তার ডাকনাম ছিল রেণু। বাল্যকালে বাবা-মা হারানো রেণুর অল্প বয়সেই পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
বঙ্গবন্ধু তাঁকে রেণু নামেই বেশি ডাকতেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে এক জায়গায় বঙ্গমাতা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘রেণু খুব কষ্ট করত, কিন্তু কিছুই বলত না। নিজে কষ্ট করে আমার জন্য টাকা-পয়সা জোগাড় করে রাখত, যাতে আমার কষ্ট না হয়।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ আপোষহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যদিয়ে ধীরে ধীরে বাঙালির জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মহিয়সী এই নারী।
মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব প্রসঙ্গে রবিবার (৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও স্বাধীনতার জন্য আমার বাবার যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের সারথী ছিলেন আমার মা। সবসময় আমার মা সাহস জুগিয়েছেন। তবে দেশ ও মানুষের জন্য আমার মায়ের যে আত্মত্যাগ, তা খুব কমই উঠে এসেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছিলেন আদর্শ বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি। নির্লোভ, নিরহংকার ও পরোপকারী এবং পার্থিব বিত্ত-বৈভব বা ক্ষমতার জৌলুস কখনও তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী হয়েও তিনি ‘ফার্স্ট লেডি’ পরিচয়ে পরিচিত না হয়ে, সব সময় সাদামাটা জীবনযাপন করতেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করতেন। বঙ্গমাতা যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিণীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীর এবারের প্রতিপাদ্য ‘মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা : অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা’- যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। শেখ হাসিনা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
দিবসটিকে সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী, বাংলার মহিয়সী নারী, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসহ সব সোনালী অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যথাযথ মর্যাদায় পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের করবে। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে এদিন বেলা ১১টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে এক সেমিনারের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি।
প্রবা/আরএম/এসআর