জঙ্গি ছিনতাই
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ২৩:০৪ পিএম
ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গি মইনুল ও আবু সিদ্দিক
ঢাকার আদালতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
রবিবার (২৭ নভেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ঈদী আমিন নামের ওই আসামি। তবে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে জামিনের আদেশ বাতিল করে ঈদীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন।
এদিকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সময় বাধা দিতে গিয়ে নুরে আজাদ নামে পুলিশের যে কনস্টেবল আহত হয়েছিলেন, তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার জসিম উদ্দিন জানান, নুরে আজাদসহ ওই ঘটনার দিন কর্তব্যরত পুলিশের সাত সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ২০ নভেম্বর দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। এ সময় আসামি আরাফাত ও সবুরকেও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরাফাত ও সবুরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় কোর্ট পরিদর্শক জুলহাস বাদী হয়ে ২০ জনের নামে একটি মামলা করেন। মামলায় আরও সাত-আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে ১২ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে প্রিজনভ্যানে করে নিয়ে আসা হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেওয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল ৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়। এ মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা ১৩ নম্বর আসামি মো. ঈদী আমিন (২৭) ও ১৪ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি (২৪) আদালত থেকে বের হয়ে যান। এরপর কিছুক্ষণ পর অন্য আসামিদের নিয়ে আদালতের মূল ফটকের সামনে পৌঁছানো মাত্র তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরদিন পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্তের কথা জানানো হয়েছিল। তারা হলেনÑ ঢাকার কোর্ট ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান, হাজতখানার ইনচার্জ এসআই নাহিদুর রহমান, আসামিদের আদালতে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এটিএসআই মহিউদ্দিন, কনস্টেবল শরিফুল হাসান ও কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার। তাদের সঙ্গে কনস্টেবল নূরে আজাদ ও কনস্টেবল জয়নাল যোগ হলেন। আজাদ ডিএমপির প্রসিকিউশন রিজার্ভ ইউনিটের সদস্য ছিলেন।
সেদিন পুলিশকে মেরে এবং পিপার স্প্রে ছুড়ে আনসার আল ইসলামের সদস্য মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাবকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা।
এই দুজন প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যামামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের আদালতে নেওয়া হয়েছিল।