× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যোগাযোগ

রেলের আইকনিক প্রকল্প অনিয়মেও ‘আইকনিক’

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:৩২ এএম

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৪৩ এএম

রেলের আইকনিক প্রকল্প অনিয়মেও ‘আইকনিক’

গচ্চা দেওয়ার দিক থেকে কোনো একটি প্রকল্প কতটা ‘আইকনিক’ হয়ে উঠতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প। ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পটিকে একলাফে ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে বেশুমার লুটপাট। শুধু অডিটেই ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আপত্তি উঠে এসেছে। অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণের পরও আলোচিত আইকনিক স্টেশনের স্থাপনায় ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি স্টেশনের গ্রিলে এরই মধ্যে আগাছা জন্ম নিয়েছে। বসতি নেই এমন এলাকায়ও স্টেশন বানানো হয়েছে, অথচ সেখানে যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়কও। যার ফলে গরু-ছাগল ও স্থানীয়দের আড্ডার জায়গায় পরিণত হয়েছে এগুলো। কোটি টাকার গাছপালাও মরে যাচ্ছে পরিচর্যার অভাবে। বরাদ্দের অর্থ খরচ হয়ে গেলেও অনেক জায়গাতেই গাছ লাগানোর কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল‍্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অডিট অধিদপ্তর ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প ঘিরে এসব অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ‍্যাপক মো. হাদিউজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এটাকে মেগা প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছে, কিন্তু এর জন্য যে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বা স্টাডি করা দরকার ছিলÑ সেটা করা হয়নি। আমরা মেগা প্রকল্প বলতে বুঝি শুধু বড় বিনিয়োগকে। আসলে তা নয়। মেগা প্রকল্প মানে হলো মেগা বেনিফিট, বড় উন্নয়ন। এই প্রকল্পের ৯টি স্টেশনের একটিতেও স্পেশাল ট্রেন থামছে না। একটি মাত্র লোকাল ট্রেন চলাচল করছে; সেটিও সব স্টেশনে থামছে না। এটি তো জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। এখানে বড় বিনিয়োগ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বড় বেনিফিট পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশন লাগোয়া একটি ভবনের সিলিংয়ে আনুমানিক সাত ফুটের একটি ফাটল দেখা দিয়েছে। তার নিচে শ্যাওলাও জমতে শুরু করেছে। তিনতলা আইকনিক ভবনের টিকিট বিক্রির কক্ষ ও একটি শৌচাগার ছাড়া পুরোটাই অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। 

প্রকল্পের একজন পরামর্শক জানান, ভবনটি বাণিজ্যিক ব‍্যবহারের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেওয়া হবে। এরপর এখানে শপ খোলা হবে। তখন কর্মচাঞ্চ্যল ফিরে আসবে। প্রকল্পের দায়িত্ব হচ্ছে রেল মন্ত্রণালয়কে কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়া।

সরেজমিন রামু স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনের সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওভারপাসের সিঁড়িতে বসে ছেলেমেয়েরা আড্ডা দিচ্ছে। এ ছাড়া পুরো স্টেশনই ফাঁকা। স্টেশন মাস্টার জানান, তার এখানে দশটি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিদিন ছয় থেকে সাতটি টিকিট বিক্রি হয়। একটি মাত্র লোকাল ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাতায়াত করে।

ঈদগাহ উপজেলার ইসলামাবাদ স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের লোহার গ্রিল আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা ইমরান জানান, স্টেশনে এখনও ট্রেন থামে না, লোকবলও নেই। এজন্য পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে না। এগুলো কেটে ফেলে দিলেই হবে।

স্থানীয় মুদি দোকানদার শফিক মিয়া বলেন, রেললাইন হওয়ার পর আমরা সবাই খুশি হয়েছিলামÑ এবার বুঝি ট্রেনে যাতায়াত করতে পারব। অথচ এই স্টেশনে ট্রেন থামে না। তিনি দাবি করেন, স্টেশনটি কক্সবাজারের মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল। এখানে ঈদগাহ বাজার রয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ ব‍্যবসায়ী। ব‍্যবসার কাজে তাদের নিয়মিত চট্টগ্রাম যেতে হয়। কিন্তু তারা রেলের সেবা পান না। অন‍্য স্টেশনে গিয়ে তাদের ট্রেনে উঠতে হয়।

ট্রেন থেকে চোখে পড়ে ডুলাহাজারা স্টেশন। তাতে দেখা যায়, রেলক্রসিং ভবনে এখনও রঙ করা হয়নি। যার ফলে দরজা-জানালায় জং ধরছে। প্রকল্প অফিস থেকে জানানো হয়, এটির কাজ এখনও চলমান। তবে শিগগির কাজ শেষ করা হবে।

অধ‍্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, বড় বড় প্রকল্প নেবে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ করবে নাÑ এটি রেলের পুরোনো অসুখ। আমরা আইকনিক স্টেশন নিয়ে গর্ব করতাম, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছেÑ স্থাপনায় ফাটল ধরেছে, শ‍্যাওলা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। স্টেশনগুলোতে আগাছা হয়েছে। এটি রেলের অব‍্যবস্থাপনার কারণেই হচ্ছে।

স্টেশনে থামে না ট্রেন, নেই সংযোগ সড়ক

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৯টি স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণই এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ছয়টিতে ট্রেন থামে, বাকি তিনটিতে থামে না। অর্থাৎ এগুলোর কোনো কাজ নেই। আবার স্টেশনে আসার জন্য সংযোগ সড়ক নেই তিনটিতে। স্টেশনে আসতে হলে হেঁটে আসতে হয়। কয়েকটি স্টেশনের পাশের সংযোগ সড়ক অনেক সরু দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, স্টেশন তৈরি করা আমাদের কাজ, সড়ক নির্মাণের কাজ এলজিইডির। আমরা এলজিইডির সঙ্গে কয়েক দফা মিটিং করেছি। বারবার তাগাদা দিয়েছি। তারা যদি সড়ক নির্মাণ না করে, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। দুয়েক জায়গায় আমরা স্টেশন থেকে কয়েকশ গজ সামনে পর্যন্ত সড়ক করে দিয়েছি, যাতে এলজিইডি সহজে তাদের তৈরি রাস্তা সংযুক্ত করতে পারে।

অধ্যাপক হাদিউজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, এটিকে ভুল পরিকল্পনার প্রকল্প বলব না, বলব খামখেয়ালিপনার প্রকল্প। স্টেশন আছে, কিন্তু সংযোগ সড়ক নেইÑ এটা কীভাবে হয়? যাত্রীরা কীভাবে যাতায়াত করবে? প্রকল্প নেওয়ার আগে যে সম্ভাব‍্য সমীক্ষা করা হয়েছে, সেটা কীভাবে করেছে? স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ সড়ক ছাড়া সম্ভাব‍্যতা যাচাই হলো কীভাবে? এটার জন্য যে সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হয় সেটাও হয়নি। তাই এটিকে খামখেয়ালিপনা ছাড়া আর কিছু বলব না।

২৫০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি 

প্রকল্পটি নিয়ে ৩৮টি অডিট আপত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি এখনও নিষ্পন্ন হয়নি। মাত্র ৯টি আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিতে সম্পর্কিত অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৫০১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ২২৯ টাকা। আর নিষ্পত্তি হওয়া অডিট আপত্তিতে অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ৩১৫ টাকা। 

অডিট আপত্তির বিষয়ে মো. সুবক্তগীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কিছু অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুতই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এ জন্য অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। 

বৃক্ষরোপণ নিয়ে হতাশা আইএমইডির প্রতিবেদনে

চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটি পরিদর্শনে যায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সেক্টর-২ এর মহাপরিচালক জহির রায়হান। সে সময় তিনি রেললাইনের দুই পাশে গাছপালা দেখতে পাননি। তার পরিদর্শন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম হতাশাজনক। লট-১ এর আওতায় এখনও বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু হয়নি। দ্বিতীয় লটের আওতায় রোপিত গাছের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। বৃক্ষ রক্ষণাবেক্ষণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

এই রিপোর্টের সূত্র ধরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের পরিকল্পনায় থাকলেও রেললাইনের পাশে অনেক জায়গাতে কোনো গাছ লাগানো হয়নি। কয়েকটি স্থানে শুধু খুঁটি রয়েছে, গাছ নেই। আবার নতুন করে কিছু জায়গায় গাছ লাগাতে দেখা গেছে। 

দুটি লটে কত টাকার গাছ লাগানো হয়েছেÑ তা সুনির্দিষ্টভাবে ডিপিপিতে উল্লেখ নেই। তবে প্রকল্পের একজন পরামর্শক জানান, আনুমানিক দুই কোটি টাকার গাছ লাগানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, সঠিকভাবেই গাছ লাগানো হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। কিছু জায়গায় গাছ মরে যেতে পারে, এটি স্বাভাবিক। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে গাছ পরিচর্যা করে বড় করে দিতে হবে। এরপর আমরা বড় গাছ গুনে দেখব, চুক্তি অনুযায়ী আছে কিনা। তারপর মূল‍্য পরিশোধ করব।

তিনি আরও বলেন, সিগন‍্যাল ও স্টেশনের কাছে গাছ লাগানো নিষেধ আছে। কারণ এসব জায়গায় গাছ লাগালে সিগন্যাল দেখা যায় না, দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। আইএমইডির ডিজি স‍্যার চলন্ত ট্রেন থেকে গাছ দেখেছেন। তিনি দেখেছেন, সিগন্যালের আশপাশে গাছ লাগানো হয়নি। এটা নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, একটা ফুটনোট দিলে তিনি বিষয়টি সংশোধন করে দেবেন।

এদিকে আইএমইডির পরিদর্শনে আরও কিছু আপত্তি তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত সিগন্যালিংয়ের কাজ সমাপ্ত হয়নি। ফলে ট্রেন ধীরগতিতে স্টেশন অতিক্রম করে। এতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।

একলাফে ব্যয় বাড়ে ১০ গুণ

পর্যটননগরী কক্সবাজারকে রেলওয়ের নেটওয়ার্কের মধ্যে আনতে ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিন বছর মেয়াদে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বাকি ৯১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ ছিল। এরপর ২০১৬ সালে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী আনা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ৮৭৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এরপর কয়েক ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিন বছরের প্রকল্প গিয়ে ঠেকে ১৫ বছরে। সম্প্রতি প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। প্রস্তাবে গুমধুম অংশের রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ৬ হাজার ৬৬৮২ কোটি টাকা কমে গিয়ে দাঁড়াবে ১১ হাজার ৩৫১ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। 

এই প্রকল্পকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমাদের ভূরাজনৈতিক যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেটা বিবেচনায় নিয়েই ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হবে। আমরা গুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করতে চেয়েছি। কিন্তু মিয়ানমারের ভেতরে কোনো রেললাইন নেই। তাদের কোনো পরিকল্পনাও নেই। এখন আমি যে সীমান্ত পর্যন্ত রেললাইন করে ফেলে রাখব; সেই রেলেরওতো ইকোনমিক লাইফ আছে। এই বিনিয়োগ করে কি লাভ হতো? আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডিকে নিছক একটি ফরমালিটিজ হিসেবে দেখছি। ফিজিবিলিটি স্টাডি হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের যে স্টাডি করা হয়, সেটি একেবারে দুর্বল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমধুম অংশ বাতিল করে ভালো কাজ করেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা