× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুর্ঘটনার কারণ খুঁজবে ‘ডার্ক সফটওয়্যার’

সুজন কৈরী

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:২৪ পিএম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:২৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বয়ে প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘ডেটাবেজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অব রোড ক্র্যাশ’ (ডার্ক) নামের একটি বিশেষ সফটওয়্যার। এর অ্যাপসও এর মধ্যে তৈরি করা হয়েছে।

‘ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট’-এর (ডিআরএসপি) উদ্যোগে জাইকার অর্থায়নে ঢাকার সড়ক নিরাপত্তার কার্যক্রম অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। এবার নতুন করে নেওয়া হলো এই প্রকল্প। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সড়কের কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা ডার্ক সফটওয়্যারে তথ্য দেবেন। এসব তথ্য জমা হবে ডিএমপির সদর দপ্তরে। সফটওয়্যারটিতে আটটি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্যÑ যেকোনো সড়ক দুর্ঘটনাকে ডেটাবেজের আওতায় নিয়ে আসা এবং রাজধানীর দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা।

ইনপুট নেওয়া হবে আটটি ক্যাটাগরিতে

সফটওয়্যারটিতে থাকা আটটি ক্যাটাগরি হচ্ছেÑ দুর্ঘটনার সময়, তারিখ, ঘটনার বিবরণ, ইনপুট দেওয়া অফিসারের তথ্য, জিপিএস লোকেশনের তথ্য, হতাহতের তথ্য, দুর্ঘটনার ধরন, দুর্ঘটনার পেছনে সহায়ক কারণ, দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া (বৃষ্টি, কুয়াশা কিংবা রোদ) ও দুর্ঘটনার চিত্র। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট সহজেই ছবি তুলে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র সফটওয়্যারে ইনপুট দিতে পারবেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে এ সফটওয়্যার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ডিএমপির ৮৫০ ডিসি, এডিসি, এসি, টিআই ও সার্জেন্ট। তবে গত সরকার পতনের পর ডিএমপিতে রদবদলের কারণে প্রশিক্ষণ নেওয়া অধিকাংশ কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। নতুন যোগ দেওয়া সদস্যরা শিগগিরই নতুন করে ডার্ক সফটওয়্যারের ওপর প্রশিক্ষণ নেবেন। চলতি মাসেই তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা। 

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, আগে ঢাকা শহরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ৬৭ পাতার একটি ফরমে দুর্ঘটনার তথ্য পূরণ করে সেটা থানায় রেকর্ড হতো। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনায় থানায় মামলা বা জিডি হলেই কেবল ওই ফরম পূরণ করে থানায় জমা রাখা হতো। দুর্ঘটনার শিকার উভয় পক্ষ নিজেরাই মীমাংসা করে ফেললে ফরম আর পূরণ করা হতো না। ফলে ঘটনাটি আর পুলিশের নথিতে লিপিবদ্ধ হতো না। 

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজেরাই মীমাংসা করে ফেলে। এতে দুর্ঘটনার অনেক তথ্যই উঠে আসে না। আগের ফরমটি ছিল অ্যানালগ। এক মাস পর থানা থেকে ডিএমপি সদর দপ্তরের অপারেশনস বিভাগে জমা হতো দুর্ঘটনার ওই ফরমের তথ্য। পরে একটি পুরোনো অফলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে দুর্ঘটনার তথ্যগুলো রেকর্ড করা হতো। হাতে লেখা ফরমে দুর্ঘটনার একটি বড় অংশের তথ্য রেকর্ড থাকত না। অপরদিকে যে রেকর্ডগুলো থানা থেকে আসত, সেগুলোরও অধিকাংশ ত্রুটিপূর্ণ থাকত। এজন্য ডিআরএসপি একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডার্ক’ সফটওয়্যার। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ‘ড্রাইভার’ সফটওয়্যারের আদলে এই ‘ডার্ক’ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। 

যা বলছেন কর্মকর্তারা

ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্টের (ডিআরএসসি) ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা আগের ফরমটি ছিল অ্যানালগ। হাতে লেখা ফরমে দুর্ঘটনার অনেক তথ্যই রেকর্ড থাকত না। আবার যে রেকর্ডগুলো থানা থেকে আসত, সেগুলোও ত্রুটিপূর্ণ থাকত। এজন্য উন্নত সেবার জন্য ডিআরএসসি অনলাইন বেসিসে এই সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যদি এজাহার দায়ের হয়, তবে সেই ডেটা আগে ডিএমপিতে সংগ্রহ করা হতো। এখন মামলা হোক বা না হোক, ডার্ক সফটওয়্যারের মাধ্যমে যেকোনো দুর্ঘটনার সব তথ্য ছবিসহ সংগ্রহ করা হবে। এতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনা রোধের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। সমগ্র ঢাকা শহরের তথ্য যখন পুলিশের কাছে থাকবে, তখন সহজেই বলা সম্ভব হবে, কোন স্পটে কতবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। কী কী কারণে তা ঘটছে, কেন ঘটছে সেসব তথ্যও উঠে আসবে।’ 

ডিআরএসপি প্রজেক্টের জাইকা এক্সপার্ট টিমের তাকেশি মাতসুনুমা বলেন, ‘এই মুহূর্তে ডিএমপির কাছে মহানগর এলাকায় দুর্ঘটনার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ডার্ক সফটওয়্যার ব্ল্যাক স্পট (দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান) শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করবে। এর ফলে ডিএমপি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা