× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় জাদুঘরে নিদর্শনের মাত্র ৫ শতাংশ প্রদর্শিত হয়: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২২ ১৯:১০ পিএম

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২ ১৯:৩০ পিএম

জাতীয় জাদুঘরের রূপান্তরের ইতিহাস-বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা

জাতীয় জাদুঘরের রূপান্তরের ইতিহাস-বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ করা হবে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, এখন যে ১ লাখ ৯৭ হাজার নিদর্শন আছে, তার মাত্র ৫ শতাংশ প্রদর্শিত হয়। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগৃহীত মুদ্রার সংখ্যা বাদ দিলেও জাতীয় জাদুঘরে ৫৭ হাজার নিদর্শন রয়েছে। এসব নিদর্শন প্রদর্শনের জন্য স্থানসংকুলান হয় না ৷ যে ৫ শতাংশ প্রদর্শিত হয়, তাও অদলবদল করা হয়। 

‘শিগগিরই জাতীয় জাদুঘরের সম্প্রসারিত ভবন নির্মিত হবে। তখন আরও অনেক নিদর্শন প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।’

জাদুঘরের ১০৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'ঢাকা থেকে জাতীয় জাদুঘর: রূপান্তরের ইতিবৃত্ত' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের আয়োজনে রবিবার সকালে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আবুল মনসুর। জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া। আলোচক হিসেবে ছিলেন ওয়াইল্ড টিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাডীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’ পরিকল্পনার অগ্রভাগে থাকা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জাদুঘর হলো উন্মুক্ত বিশ্বিবদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবহারিক ক্লাস হিসেবে জাদুঘরকে ব্যবহার করতে পারল কি না তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে জাদুঘর বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, তা-ও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে এমন জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা রয়েছে সরকারের ৷ সেটা প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের তরুণরা প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখবে। পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এ দেশে একাধিক প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর থাকা উচিত।

অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, অধ্যাপক আহমেদ হাসান দানি, ড. এনামুল হকসহ আরও অনেকের অবদানে জাতীয় জাদুঘর আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তাদের সবার অবদানের কথা স্মরণ রাখতে হবে ৷ একসময় অর্থাভাবে সরকার ঢাকা জাদুঘরের ভার ছেড়ে দিয়েছিল ৷ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব অর্থায়নে ওই জাদুঘর চালু রেখেছিল ৷ সেই অবদানটুকুও স্মরণ করতে হবে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, শিল্পকলা ও প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত নিদর্শনাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ১৯১৩ সালে যাত্রা করে ঢাকা জাদুঘর। ১৯১৪ সালের ৬ জুলাই নলিনীকান্ত ভট্টশালীকে জাদুঘরের কিউরেটর নিযুক্ত করা হয়। ১৯১৪ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেন উদ্যোক্তারা। তখন জাদুঘরের মোট নিদর্শন ছিল ৩৭৯টি।

১৯১৫ সালের জুলাই জাদুঘরটি নিমতলীতে অবস্থিত ঢাকার নায়েব নাজিমদের বারোদুয়ারি ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে এটি শাহবাগের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এ জাদুঘরে ৪৪টি প্রদর্শনী কক্ষ, তিনটি অডিটোরিয়াম, একটি গ্রন্থাগার ও দুটি অস্থায়ী প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চারটি শাখা জাদুঘর। এগুলো হলো সিলেটের ওসমানী জাদুঘর, ঢাকার আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা।

জাদুঘরের নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য চারটি বিশেষায়িত কিউরেটোরিয়াল বিভাগ রয়েছে। সেগুলো হলো ১. প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ, ২. ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ, ৩. জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগ, ও ৪. সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগ।

প্রবা/টিকে/ম.ই

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা