জলবায়ু পরিবর্তন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:২৮ পিএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৪৩ এএম
কনফারেন্স অব দ্যা পার্টিসের (কপ২৯) প্রেসিডেন্ট ও ইকোলজি অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স মিনিস্টার অব আজারবাইজান মুখতার বাবায়েভ, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভ এবং জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের কাছে চিঠি দিয়েছে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস (এমডব্লিউইআর)।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মহাসচিবের মেইলে এ চিঠি পাঠিয়েছেন এমডব্লিউইআরের আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ ও যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ কৌশিক। বুধবার (২০ নভেম্বর) এমডব্লিউইআরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব দুর্যোগের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্যান্য খাতের মধ্যে শিক্ষা খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই প্রতি বছর নানাবিধ দুর্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা খাতে কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে তা নিরূপণ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘প্রতি বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ২৫ জেলা ৯ দফায় ১৭ বারে ৫৭ দিন বন্যাকবলিত ছিল। এতে গড়ে প্রায় আড়ই মাস শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অনেক বিদ্যালয় বন্ধও করে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া শৈত্যপ্রবাহ, তাপপ্রবাহসহ অসংখ্য ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব দুর্যোগ যে শুধু বাংলাদেশে তা নয়, বরং ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটানসহ ভাটি ও স্বল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোয় প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার চরমভাবাপন্ন অবস্থা ও সবশেষ জলবায়ু পরিবর্তন।
প্যারিস চুক্তি ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেখানে বিশেষভাবে শিক্ষায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতি বছর দুর্যোগে আক্রান্ত দেশগুলোয় বিভিন্ন দুর্যোগে শিক্ষাব্যবস্থায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে সে হিসেবে প্রতিটি দেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চলতি কপ২৯-এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ব্যবস্থা নিতে আয়োজক কমিটির সভাপতি হিসেবে আপনার সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ জাতিসংঘের মহাসচিবকেও এ ব্যাপারে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার দাবি জোরালো করার আহ্বান জানানো হয়।