ড. ইউনূসকে ব্রিটিশমন্ত্রী
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১০ এএম
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৫৯ এএম
ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রবিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট। ছবি: বাসস
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট এ কথা জানান। রবিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, ‘এটি আপনাকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা আপনাকে সমর্থন করছি।’ তিনি জানান, তার সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। এ সময় ড. ইউনূস তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অলিগার্ক এবং আমলাদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ টিআইবির একটি প্রতিবেদনের বরাতে তিনি বলেন, বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে।
বৈঠকে ড. ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য।’ পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন বলেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় ব্রিটেন।’ তিনি এটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, কক্সবাজার অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য যুক্তরাজ্যের অনুদান সহায়তা হিসেবে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার শিকার সম্প্রদায়ের জন্য ‘জাতিসংঘ-তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা ও সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দিতে পারে।
বৈঠকে ভূরাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন, জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে বাংলাদেশে এসেছে। তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছে।