প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৯ পিএম
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। প্রবা ফটো
দেশে কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, আবার চালের দাম বাড়লে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে অনেক সময় খাদ্যদ্রব্য আমাদানি করতে হয়। কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে ভালো দামে খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করলে আর আমদানি করতে হবে না, কিন্তু তা আমরা করছি না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওমনি ইন্টারন্যাশনালে ‘বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিক : সংকট ও সমাধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) আয়োজনে রোসা লাক্সেমবার্গ স্টিফটুং (আরএলএস)-এর সহায়তায় আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
রিইব পরিচালনা পর্ষদ সদস্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ। বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কর্মজীবী নারী সংগঠনের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম খান, রিইবর পরিচালক সুরাইয়া বেগম, আরএলএসের প্রজেক্ট ম্যানেজার ভিনোদ কষ্টি, এএলআরডির ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোস্তফা নুরুল আশীন, কৃষিশ্রমিক মিঠু সাকিদার, রিনা মুন্ডা প্রমুখ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘শ্রমিকদের বেঁচে থাকা শুধু মজুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, আরও অনেক কারণ আছে। তাই কৃষকের সঙ্গে মজুরির সম্পর্ক গড়তে হবে। দেশে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং হলে কৃষকের স্বাধীন সত্তা থাকবে না। কন্ট্রাক্ট ফার্ম কৃষকের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং কৃষি খাতকে ধ্বংস করে বড় বড় কোম্পানি কাজ করে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা কতটুকু উপকার পাচ্ছেন তা আমাদের দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে কৃষি যে জিডিপিতে গুরুত্ব হারাচ্ছে তা আমাদের ভেবে দেখা দরকার। উন্নত হওয়া মানে কৃষির গুরুত্ব জিডিপিতে কমে গিয়ে অন্য সেক্টরে বাড়বে এমনটি নয়। কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ধূসর বিপ্লবে পরিণত হয়েছে। এ সেক্টরে সার-কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বৃদ্ধি পাচ্ছে- এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’
রিইবর পরিচালক সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘কৃষিশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তাদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা এবং ন্যূনতম মজুরি নেই, যা উদ্বেগের বিষয়।’
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে কৃষি খাতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে, এনজিও কার্যক্রম, ক্ষুদ্রঋণ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। তবে কৃষিশ্রমিকদের সমস্যাগুলো এখনও সমাধানযোগ্য নয়। এ সকল বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে এখন।’
কৃষিশ্রমিক প্রতিনিধি মোহাম্মদ মিঠু সাকিদার (বগুড়া) ও রিনা মুন্ডা (সাতক্ষীরা) তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে তারা কৃষিশ্রমিকদের প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ এবং চাহিদার কথা উল্লেখ করেন।