× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেশের বড় নদীগুলোতে ডলফিন আছে ১ হাজার ৩৫২টি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৩৭ পিএম

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৪৩ পিএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।  প্রবা ফটো

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। প্রবা ফটো

পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও এর শাখা-প্রশাখা, কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে ১ হাজার ৩৫২টি গাঙ্গেয় ডলফিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি ডলফিন জরিপের ফলাফল ঘোষণাকালে এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বন ভবনে ‘নদীর প্রাণ ডলফিন-শুশুক, নিরাপদে বেঁচে থাকুক’ প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস-২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিলুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনিরুল এইচ খান, উপপ্রধান বন সংরক্ষক ও সুফলের প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায় এবং বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ প্রমুখ। 

ডলফিন সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘নদীর পানি পরিষ্কার না থাকলে সেখানে শুশুক বা ডলফিন থাকে না। নদী দূষণ, ভরাট, প্লাস্টিক বর্জ্য ও কারেন্ট জালের কারণে শুশুক বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এ প্রাণিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘জরিপে বন্যনিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বর্তমানে মিঠাপানির ডলফিনের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫২টি।’ 

উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের নদী ও জলাশয়ে মিঠাপানির ডলফিনের উপস্থিতি আমাদের পরিবেশের স্বাস্থ্য নির্দেশ করে। ডলফিন টিকিয়ে রাখতে নদী ও জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারের পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ডলফিন রক্ষায় স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।’

বন রক্ষায় বন কর্মকর্তাদের সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাজের গতি বাড়াতে হবে এবং যেকোনো সমস্যা হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। বন কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। তিনি এসময় ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানান।’ 

উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো বন বিভাগের প্রধান দায়িত্ব। গাছ কাটার বিরুদ্ধে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বনরক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানান।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বন বিভাগের কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। ১৯২৭ সালের বন্য আইন সংশোধন করা হবে। সেই আইনে এ যুগে কাজ করা যাবে না। প্রাকৃতিক বনায়নে সামাজিক বনায়নে পরিবর্তন আনতে হবে। যে বনে যে প্রজাতির গাছ আছে সেখানে তাই লাগাতে হবে।’

ওয়াল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ডলফিন বিশেষজ্ঞ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নদীকে সুরক্ষিত করলে শুশুক বা ডলফিন বেঁচে থাকবে। বিশ্বে যে ছয় প্রজাতির মিঠাপানির ডলফিন পাওয়া যায়, এর মধ্যে দুই প্রজাতিই বাংলাদেশে বাস করে। এর মধ্যে গাঙ্গেয় ডলফিন হচ্ছে প্রকৃত মিঠাপানির ডলফিন এবং ইরাবতি ডলফিন মিঠাপানি ও লবনাক্ত উভয় পানিতে থাকতে পারে। আমরা ২০০৭ সাল থেকে মরটালিটি মনিটরিং টিমের মাধ্যমে ডলফিন মৃত্যুর কারণ নিয়ে গবেষণা করছি। তাতে দেখেছি, দেশে ৮০ শতাংশ ডলফিনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে ফাঁস বা কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মারা যাওয়া। তা ছাড়া অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, নদীর দূষণ, মিঠাপানির প্রবাহে বাঁধা, বাধ, ব্যারেজ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ক্ষতিকর দিক এবং ফলস্বরূপ ডলফিনের আবাসস্থলের পরিবেশ নষ্ট হওয়া এদের টিকে থাকার জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি বলেন, বন অধিদপ্তরের সুফল প্রকল্পের অধীনে ডাব্লিউসিএস কর্তৃক মেঘনা ও এর শাখা-প্রশাখা, পদ্মা, যমুনা, কর্ণফুলী ও হালদা নদীর ১ হাজার ৯০৫ কি.মি. এলাকায় করা গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য মার্ক- রিক্যাপচার পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে এই এলাকায় ৬৩৬টি গ্রুপের ১ হাজার ৩৫২টি গাঙ্গেয় ডলফিন প্রাপ্তির তথ্য পাওয়া গেছে যা সর্বনিম্ন ১ হাজার ২২৯ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৫ টি পর্যন্ত হতে পারে। এর আগে সুন্দরবন, কর্ণফুলী, সাঙ্গু, নদীর ১ হাজার ৬৭৯ কি.মি. এলাকায় প্রাপ্ত গবেষণায় ৪২৮টি গাঙ্গেয় ডলফিন পাওয়ার তথ্য রয়েছে। 

আইইউসিএনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম সারোয়ার আলম বলেন, সুন্দরবনের ডলফিনগুলো নিরাপদ থাকলেও অন্যান্য নদীতে ডলফিন নাজুক পরিস্থিতিতে আছে। নদীর নাব্যতা ও নদীর গভীরতা না থাকলে ডলফিন বেঁচে থাকবে না। লঞ্চ বা নৌকা চলাচলের স্থানে ডলফিন অবাধে ডলফিন চলাচল করে। কারণ সেখানে নাব্যতা ও জাল পাতা হয় না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা