প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:১৫ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:২৩ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
বাহাত্তরের সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণকে খাটো ও অস্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এমন দাবি করেন তিনি।
পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেছেন, ৭২-এর মুজিববাদী সংবিধানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণকে ছোট করা হয়েছে এবং অস্বীকার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে সুনির্দিষ্ট একটি দলের হাতে তুলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগীকরণ করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, গণঅভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লব কোনো সুনির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নয়। এটিকে জনগণের সম্পত্তিতে পরিণত করতে হলে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে জনগণের সংবিধানে রূপান্তরিত করতে হবে। সে জন্য ৭২-এর একদলীয় সংবিধানকে বাতিল করে একটি জনগণপন্থি সংবিধান রচনা করতে হবে। এই প্রশ্নে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আপসহীন থাকব।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন ৫ দফার প্রথম দফা নিয়ে এ সমন্বয়ক বলেন, গতকালের পাঁচ দফার প্রথম দফা হলো ৭২-এর মুজিববাদী সংবিধান বাতিল করে নতুন করে জনগণপন্থি সংবিধান লিখতে হবে। এ দাবির বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ৭২-এর সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার বয়ান হলো গণঅভ্যুত্থান পরিপন্থি বয়ান।
তিনি বলেন, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান পরিপন্থি যেকোনো বয়ান আবার ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেবে। সুতরাং ২৪- এর গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটে বিশ্বাসী ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ শক্তি ৭২-এর মুজিববাদী সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে পারে না।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত বিপ্লবে পরিণত করতে হলে পাঁচ দফা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই দাবি করে হাসনাত বলেন,
এই পাঁচ দফা বাস্তবায়নে গণতন্ত্রকামী ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ শক্তির লড়াই অব্যাহত থাকবে।
পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো -
১. মুজিববাদী সংবিধান অর্থাৎ '৭২ এর সংবিধান বাতিল করে দিয়ে, নতুনকরে সংবিধান লিখতে হবে। ২. এই সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. ফ্যাসিবাদী সংবিধানের রাষ্ট্রপতি চুন্নুকে এই সপ্তাহের মধ্যে পদচ্যুত করতে হবে।
৪. অভ্যুত্থানের স্পিরিট ও জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটের আলোকে চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মানে এই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে proclamation of Republic জারি করতে হবে। সেটির ভিত্তিতে এবং সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
৫. বিগত তিনটি (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে।