প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১৮ পিএম
আগাম জামিন পেয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেড আই খান পান্না। ছবি : সংগৃহীত
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চেয়ারপারসন ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেছেন, ‘আমি তো একাত্তর সালেই মারা গেছি। এখন বর্ধিত জীবনযাপন করছি। আমি ভীত নই। জামিন পেয়েছি, তবে বিবেক ও মুখ বন্ধ রাখব না।’
সোমবার (২১ অক্টোবর) হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।
জেড আই খান পান্না বলেন, ‘মামলা কোনো না কোনো প্রভাবশালীর ইন্ধনেই হয়েছে, তা নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। সরকারের ভেতর থেকেও হতে পারে, আবার বাইরে থেকেও হতে পারে। দুর্নীতিবাজ অনেকের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, তাদের কেউও হতে পারে। অথচ আমি কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষে সক্রিয় ছিলাম। যে স্থানের কথা বলা হয়েছে, সেই মেরাদিয়ায় আমি কখনও গেছি বলেও তো মনে হয় না।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মামলা হলে গ্রহণ করতাম, কষ্ট হতো না। কিন্তু মামলাটি আমাকে কষ্ট দিয়েছে, পীড়া দিয়েছে। একজন অচেনা লোক মামলা করেছেন, তিনি আমাকে চেনেন না বলেছেন বলে গণমাধ্যমে এসেছে।’
গত ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আহাদুল ইসলাম নামের একজনকে গুলি ও মারধর করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর ১৭ অক্টোবর রাজধানীর খিলগাঁও থানায় মামলাটি করেন আহাদুলের বাবা মো. বাকের। এতে ১৮০ জন আসামির মধ্যে ৯৪ নম্বর রয়েছেন জেড আই খান পান্না।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেড আই খান পান্নার নাম বাদ দিতে আবেদন করেন মামলার বাদী বাকের। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘উক্ত এজাহারের ৯৪ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে (৬৫) অজ্ঞতা ও ভুলবশত আসামি করা হয়। ৯৪ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করিতে মর্জি হয়।’
পরে মো. বাকের গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি জেড আই খান পান্নাকে চেনেন না। বিএনপি ও জামায়াতের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ মামলা করেছেন। আর এ কাজে পুলিশ সহযোগিতা করেছে।
হত্যাচেষ্টা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন জেড আই খান পান্না। সোমবার শুনানি নিয়ে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তার জামিনের আদেশ দেন। শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত হন জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী। তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আইনজীবী শাহদীন মালিক ও মো. শাহীনুজ্জামান প্রমুখ শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।