রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ২২:৩৮ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৪৮৫টি। এতে নিহত হয়েছে ৫ হাজার ৫৯৮ ও আহত ৯ হাজার ৬০১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৭৭ ও শিশু ৭২৯ জন। আর ২ হাজার ৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১ হাজার ৯২৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৪ দশকি ৩৬ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১২১ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছে ৬৮৮ জন অর্থাৎ ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিভাগে ১ হাজার ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৬৪ জন নিহত হয়েছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৩১৯টি দুর্ঘটনায় ২৯৯ জন নিহত হয়েছে।
রবিবার (২০ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ বছরের প্রথম ৯ মাসে ৮৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত, ১২৫ জন আহত এবং ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। আর ২৪৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২২৭ জন নিহত এবং ২২৩ জন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১ হাজার ৯২৪ জন (৩৪.৩৬ শতাংশ), বাসযাত্রী ২৯৩ জন (৫.২৩ শতাংশ), পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী (ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ইত্যাদি) ৪২০ জন (৭.৫০ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপআরোহী ২৯৫ জন (৫.২৬ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান ইত্যাদি) ১ হাজার ৯৭ জন (১৯.৫৯ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম) ২৭৮ জন (৪.৯৬ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-রিকশাআরোহী ১৭০ জন (৩.০৩ শতাংশ) নিহত হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৮৪৯টি (৩৩.৭১ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২ হাজা ১৩৪টি (৩৮.৯০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৭৭১টি (১৪.০৫ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ৬৭০টি (১২.২১ শতাংশ) শহরের সড়কে ও অন্যান্য স্থানে ৬১টি (১.১১ শতাংশ) দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর ১ হাজার ২০৪টি (২১.৯৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২ হাজার ৩৬৯টি (৪৩.১৯ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১ হাজার ১৪৮টি (২০.৯২ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৬৪৯টি (১১.৮৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১১৫টি (২.০৯) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান-ড্রামট্রাক ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি, তেলবাহী ট্যাংকার-বৈদ্যুতিক খুঁটিবাহী ট্রাক-সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ইত্যাদি) ২৩.১৪ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১০.২৫ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৪.৭৬ শতাংশ, মোটরবাইক ২০.৭৫ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান ইত্যাদি) ১৬.৪৯ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-করিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৫.৯১ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.২০ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১৬.৪৬ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৭৯টি। বাস ১ হাজার ৯৫, পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রলি-লরি-ট্রাক্টর-ড্রামট্রাক-সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ইত্যাদি) ২ হাজার ৪৭২, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৫০৯, মোটরসাইকেল ২ হাজার ২১৬, থ্রি-হুইলার ১ হাজার ৭৬১ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৩২ (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম ইত্যাদি), বাইসাইকেল রিকশা ২৩৬ এবং অজ্ঞাত গাড়ি ১ হাজার ৭৫৮টি।
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৩১০টি (৫.৬৫ শতাংশ), সকালে ১ হাজার ৪৬৫টি (২৬.৭০ শতাংশ), দুপুরে ১ হাজার ১০২টি (২০.০৯ শতাংশ), বিকালে ৮৬৫টি (১৫.৭৭ শতাংশ), সন্ধ্যায় ৫২৪টি (৯.৫৫ শতাংশ) এবং রাতে ১ হাজার ২১৯টি (২২.২২ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২১.৩৬ শতাংশ, প্রাণহানি ২৪.৩৬ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪.৮৭ শতাংশ, প্রাণহানি ১৩.৮৪ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯.১০ শতাংশ, প্রাণহানি ২০.৪৮ শতাংশ; খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩.২৭ শতাংশ, প্রাণহানি ১২.৬৮ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৪৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৬.১০ শতাংশ; সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৮১ শতাংশ, প্রাণহানি ৫.৩৪ শতাংশ; রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৯৩ শতাংশ, প্রাণহানি ১০.০৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.১৬ শতাংশ আর প্রাণহানি ঘটেছে ৭.০৭ শতাংশ।