× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

আয়নাঘরের দুঃস্বপ্ন ঘেরা দিনগুলো

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:৪০ পিএম

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:৪২ পিএম

আয়নাঘরের দুঃস্বপ্ন ঘেরা দিনগুলো

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন কারাগারে রাজবন্দিদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের কাহিনী।

নির্যাতন সইতে না পেরে আয়নাঘরের কোনো বন্দি প্রায় উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন। কেউবা মারা গিয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই বন্দিশালা থেকে ছাড়া পেয়েছেন কয়েকজন। বন্দিশালা থেকে মুক্ত হয়ে তাদের মধ্যে কয়েকজন শেখ হাসিনার আক্রোশের শিকার হওয়ার গল্প বলেছেন নিউইয়র্ক টাইমসকে।

ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টায় জোরপূর্বক গুম করা ছিল শেখ হাসিনার অন্যতম কৌশল। এ অপচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহৃত শত শত মানুষের কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব মানুষকে আটক করা হয়েছে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজন, রাস্তা অবরোধ, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষুব্ধ কোনো মন্তব্যের মতো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য। বন্দিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক, আইনজীবীসহ মানবাধিকার কর্মীরাও।

আয়নাঘরের জীবনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা এই ব্যক্তিদের একজন আইনজীবী মীর আহমেদ কাসেম আরমান। গত আগস্টে আয়নাঘর থেকে ছাড়া পান তিনি। আরমানকে জানালাবিহীন একটি কারাপ্রকোষ্ঠে আট বছর বন্দি রাখা হয়েছিল। ওই কক্ষে একেকটা দিনও ছিল যেন অন্তহীন অন্ধকার রাত।

কাসেম আরমান জানান, কারারক্ষীরা একদিন ভোর হওয়ার আগেই কক্ষে ঢোকেন, ওই সময় তার মনে হয়েছিল, আজই মনে হয় সব শেষ। নিরাপত্তারক্ষীরা কক্ষে ঢুকে তাকে নামাজ শেষ করতে বলেন। খুলে দেন চোখের পুরু বাঁধন। খুলে ফেলেন হাতকড়াও।

আরমান ভেবেছিলেন, তাকে মেরে ফেলে হয়তো লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে, নয়তো ডোবায় ফেলে দেওয়া হবে। সেদিন তিনিসহ আরও কয়েকজনকে একটি ছোট ভ্যানগাড়িতে তুলে শুইয়ে বেঁধে দেন রক্ষীরা। দুজনের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় তাকে। তাদের নিয়ে গাড়ি ছুটে চলে এক ঘণ্টা। এরপর তাকে নিয়ে রাজধানী ঢাকার একপ্রান্তে নির্জন মাঠে ফেলে চলে যান ওই নিরাপত্তারক্ষীরা।

মীর আরমানকে ২০১৬ সালে তুলে নিয়ে গিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল না। তিনি ইসলামি আন্দোলনের একজন কর্মী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর (মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলী) ছেলে হওয়ায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল।

আরমান বলেন, অন্ধকার এই বন্দিজীবনে একটি বিষয়ই আমাকে পাগল হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। তা হলোÑ আমার স্ত্রী ও দুই কন্যার চিন্তা। আমি সব সময় স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছি, এ পৃথিবীতে যদি আমাদের আর দেখা নাও হয়, বেহেশতে যেন একত্র হতে পারি।

গোপন বন্দিশালার যন্ত্রণা ভোগের বর্ণনা দিয়েছেন আবদুল্লাহিল আমান আজমি। সাবেক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা আজমিকেও তার বাবার কারণে (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির গোলাম আযম) ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর তিনিও আয়নাঘর থেকে ছাড়া পান।

আমান আজমি আট বছর বন্দি ছিলেন। আজমির অনুমান, ওই কয়েক বছরে অন্তত ৪১ হাজার বার তার চোখ বাঁধা এবং হাতকড়া পরানো হয়েছে।

আমান আজমি বলেন, ‘আমি বন্দিজীবনে আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, ঘাস, গাছপালা দেখিনি। প্রথম দিকে দুটি ছোট ভেন্টিলেটর দিয়ে সূর্যের আলো দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর তারা (কর্তৃপক্ষ) সেগুলো বন্ধ করে দেয়।

কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মারুফ জামান। ২০১৯ সালে তিনি আয়নাঘর থেকে ছাড়া পান। এর আগে এ বন্দিশালায় এক বছরের বেশি সময় ছিলেন তিনি।

মারুফ জামান দ্য টাইমসকে আয়নাঘরের অবস্থান গুগল ম্যাপ খুলে দেখান। দেখা যায়, ঢাকার একটি সামরিক ঘাঁটি। সেখানেই আয়নাঘরের অবস্থান। এ গোপন বন্দিশালার নাম প্রথম জানা যায় ২০২২ সালে বিদেশে বাংলাদেশি গণমাধ্যম নেত্র নিউজের একটি প্রতিবেদন থেকে।

শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে তার ভারতীয় স্বার্থরক্ষার বিষয়ে সমালোচনায় মুখর ছিলেন মারুফ জামান। বন্দি থাকাকালে জিজ্ঞাসাবাদকালে তার মুখে অনবরত ঘুষি মারা হতো বলে জানান তিনি। এতে তার দুটি দাঁত পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদকারীরা তার সামনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্লগে নিজের দেওয়া সব পোস্ট প্রিন্ট করে আনতেন। পোস্টগুলোর নির্দিষ্ট কিছু বিষয় সম্পর্কে জেরা করতেন।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী মাইকেল চাকমা। আগস্টের কোনো একদিন কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি জঙ্গলে ছেড়ে যাওয়া হয়।

মাইকেল চাকমা বলেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম আমি দিনের আলো দেখলাম। যখন দেখছিলাম, দুবার পরীক্ষা করছিলাম, আমি কি এ আলো স্বপ্নে দেখছি, নাকি বাস্তবেই।’

ঢাকায় ২০১৯ সালে একটি ব্যাংকে ঢোকার পর অপহৃত হন মাইকেল চাকমা। কারাগারের ভেতর তিনি জিজ্ঞাসাবাদকারীদের কাছে জানতে চাইতেন, কেন সেখানে তাকে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে কাছাকাছি যে জবাব পেয়েছেন তা হলো- রাজনৈতিক প্রতিশোধ।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা নিজের দল আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে অংশ নিতে একবার চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। সে সময় মাইকেল চাকমার দলীয় ছাত্রসংগঠন সড়ক অবরোধ করেছিল। সেদিন শেখ হাসিনা সমাবেশে হুমকি দিয়েছিলেনÑ এ বিক্ষোভের পেছনে যারা রয়েছেন, তাদের তিনি দেখে নেবেন।

মাইকেল চাকমা বলেন, ওই ঘটনা তাকে (শেখ হাসিনা) ক্ষুব্ধ করেছিল। আমি সব সময় তাদের কাছে জানতে চাইতাম, আমার কী অপরাধ? আমি কী করেছি? আমি কি দোষী? তারা বলতেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে আমি অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনীতি করছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা