৭ মার্চসহ আট দিবস বাতিল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ০০:৪২ এএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৩০ এএম
ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ আটটি দিবস বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাতে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে দিনভর চলে আলোচনা। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাজমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেখান তীব্র প্রতিক্রিয়া।
সোহেল তাজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন (বানান ও বাক্যরীতি অপরিবর্তিত), ‘৭ই মার্চ এবং ১৫ই অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস বাতিল ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি। একেকজন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে আর ইতিহাসকে বিকৃত করবে আড়াল করবে অথবা নতুন করে লিখবে তা হতে পারে না।’
ভারতে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন লিখেছেন (বানান ও বাক্যরীতি অপরিবর্তিত), ‘‘বাংলাদেশের ‘এনজিও সরকার’ ৮টি দিবস বাতিল করেছে। এর মধ্যে ৬টি দিবস নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। তবে দুটো দিবস নিয়ে আমার আপত্তি আছে। ৭ই মার্চ আর ১৫ আগস্ট। ১৫ আগস্ট সম্পর্কে বলবো, এই দিবসটি বাতিল করা উচিত নয়, এটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে রাখা উচিত, কারণ সেদিন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল জাতির পিতাকে।তবে আমার ঘোরতর আপত্তি, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস ৭ই মার্চকে বাতিল করা নিয়ে। ৭১’এর ৭ই মার্চে ঐতিহাসিক যে ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, সেই ভাষণটি না শুনলে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তো না, দেশের কোটি কোটি মানুষকে বর্বর পাকিস্তানি সেনা আর বিশ্বাসঘাতক রাজাকাররা মিলে হত্যা করতো। বিজয়ের মুখ হয়তো আমরা দেখতাম না। বাংলাদেশ নামের একটি দেশই হয়তো পেতাম না। হয়তো পশ্চিম পাকিস্তানের গোলামী করেই যেতে হতো বাঙালিকে।’’
তিনি আরও লেখেন, ‘৭ই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় অর্জন, পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়া, নতুন দেশ বাংলাদেশের জন্ম হওয়া-এসব কাদের সহ্য হয় না? রাজাকারদের, রাজাকারের বাচ্চাদের, আর রাজাকারের নাতিপুতিদের। এদের রাগ ভারতের ওপরও। কারণ দেশ স্বাধীন করতে ভারত আমাদের সাহায্য করেছে। ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেও গাড়লগুলো এখন মুখের লাগাম টেনেছে। কারণ বুঝতে পেরেছে ভারতকে ক্ষেপিয়ে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। অগত্যা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের ক্ষেপালে ক্ষতি নেই বলে ক্ষেপাচ্ছে। তারা ভুলে গেছে যে শুধু আওয়ামী লীগই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক নয়। রাজাকার এবং তাদের গোষ্ঠী ছাড়া দেশের সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, ৭ই মার্চের ভাষণ শুনলে এখনও তাদের গুজবাম্প হয়, এখনও তাদের চোখ জলে ভরে ওঠে।’
তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘রাজাকারের বাচ্চা আর নাতিপুতিগুলো এখন যদি ২১শে ফেব্রুয়ারি আর ১৬ই ডিসেম্বরকে বাতিল ঘোষণা করে, অবাক হবো না। যদি শহীদ মিনার আর স্মৃতিসৌধ ভেঙ্গে গুঁড়ো করে, অবাক হবো না। যদি দেশের নাম বদলে ইসলামিক রিপাবলিক অফ বাংলাস্তান বা পূর্ব পাকিস্তান রাখে, অবাক হবো না। যদি ১৪ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে, অবাক হবো না। যদি জাতির পিতা হিসেবে জিন্নাহর ছবি টাঙায়, অবাক হবো না। যদি শরিয়া আইন জারি করে, অবাক হবো না। দেশকে যদি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়, অবাক হবো না।’
ব্যান্ডতারকা মাকসুদুল হক তার পোস্টে লিখেছেন, ‘নয়া বাংলাদেশে’ একুশে ফেব্রুয়ারি আর পহেলা বৈশাখ থাকবে নাকি ওগুলোও ‘বাতিল’?
নির্মাতা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘কিছুদিন পর দেখা যাবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস বাদ, নতুন স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ৩৬ জুলাই পালিত হবে হয়তো!’