ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২১:১৪ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ০০:৪৬ এএম
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ইতিহাস মোছার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আনু মুহাম্মদ লেখেন (বানান ও বাক্যরীতি অপরিবর্তিত), ‘৭ ই মার্চ আওয়ামী লীগের দলীয় দিবস নয়, এই দিনের ঐতিহাসিক বক্তৃতাও শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত নয়। সারা দেশের, সব স্তরের মানুষের, প্রায় সব দল মত সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ অনুপ্রাণিত উদ্দীপ্ত চৈতন্যের প্রকাশই ঘটেছিল এই দিনে। মুজিবের বক্তৃতার শক্তিও তৈরি হয়েছিল জনগণের অসাধারণ উত্থানের শক্তি থেকে। প্রকৃতপক্ষে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এই দিনেই। ৭ ই মার্চ অবশ্যই আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেখ মুজিব রাজনৈতিক চরিত্র, তার সমালোচনা পর্যালোচনা অবশ্যই হবে কিন্তু ইতিহাস মোছার চেষ্টা চলবে না।’
তার পোস্টে নাছের উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, ‘স্যার, এদের চেতনা দেখে তো আমাদের চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে, স্বৈরাচার হটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যে হারে অবমূল্যায়ন করে চলেছে এর শেষ কোথায়? নব্য সাম্রাজ্যবাদীদের মুক্তিযুদ্ধের সব-কিছুতেই কেমন যেন অনিহা।’
সোনিয়া ক্রিস্টি লিখেছেন, ‘এর চেয়ে বড় সত্য আর নাই! আপনাকে ধন্যবাদ স্যার।’
কামরুল হাসান লিখেছেন, ‘আজ যারা বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে চাচ্ছে। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চাচ্ছেন। আপনি ও আপনারা তাদের সৃষ্টি করেছেন গত কয়েক মাস ধরে। ৩২ নম্বর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার সময় আপনাদের নীরবতায় আজ এই বাড়বাড়ন্ত।’
মাহবুব এলাহি লিখেছেন, ‘আজকে ৭ ই মার্চ কে অস্বীকার করছেন যারা তারা ২৬ শে মার্চ কে আগামী তে অস্বীকার করবেন না? মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে এখনও সব আলোচনা শেষ হয়নি, হবার কথা নয়। সেরকম আলোচনা না করেই দিবস বাতিল করা কেন? এগুলো কারা জরুরি মনে করছেন, কেন মনে করছেন?’
এ দিন সকালে ৭ ই মার্চসহ আটটি দিবস বাতিল হতে যাচ্ছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। একই দিন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মনে করেছে না এই সরকার।
সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সামাজিকমাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা। নেটিজেনরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই ঠিক হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী তার পোস্টে লেখেন (বানান ও বাক্যরীতি অপরিবর্তিত), ‘সরকারের খুবই জঘন্য এবং বাজে একটি সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস বাতিল করতে যাওয়া। মেরুদণ্ড (মেরুদণ্ড নয়) হলো চুম্বককে আপনি যেদিকে ঘোরান সেটি উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে অবস্থান করবেই। এটা বিজ্ঞান। পৃথিবীর যেকোনো ব্যবস্থা সেটি রাষ্ট্র হোক বা সমাজ, অর্থনীতি হোক বা পৌরনীতি -- সবখানে এই মেরুদণ্ড ক্রিয়াশীল থাকবেই। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির মেরুদণ্ডের একটি মেরু হলো তার মুক্তিযুদ্ধ। আপনি বাংলাদেশকে যতভাবে পাল্টাতে চান সে তার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফিরে যাবেই। আর স্বাধীনতা যুদ্ধের মেরুদণ্ডের প্রধান ভিত্তি হলো ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। এটি আপনি পাল্টাতে গেলে সাময়িক ফল হয়তো পাবেন। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ফল সম্পর্কে জানতে হলে মেরুদণ্ডের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আপনাকে জানতে হবে। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বাইরে অবস্থান করা চুম্বক খণ্ডের অংশগুলো অনেক চাকচিক্যপরায়ণ হয়, কিন্তু ধপাস করে ভূপাতিত হতে সময় লাগে না।’