প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৫:১৭ পিএম
মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : প্রবা
বাংলাদেশে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ৯ মাসে ৩ হাজার ৬৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন। তাদের মধ্যে দলবন্ধ ধর্ষণের শিকার ২০৫ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩০ জনকে। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন আরও ৮ জন। অন্যরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এসব তথ্য তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক নারীনির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর—১০ ডিসেম্বর) ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০২২ উপলক্ষে মহিলা পরিষদ এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। এবারের শ্লোগান ছিল 'নারী ও কন্যা নির্যাতন বন্ধ করি, নতুন সমাজ নির্মাণ করি'।
সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ডিপার্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। 'নারী ও কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতা ও তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততার উপর' প্রস্তুতকৃত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সমীক্ষা, গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৩টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার চিত্র প্রতি মাসে গণমাধ্যমে তুলে ধরে। সেখানে দেখা যায়, ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ বাড়ছে আশংকাজনক হারে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৯.১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা রাস্তায় পিছু নেওয়া এবং অশালীন মন্তব্যের সম্মুখীন হয়েছেন। ৬০.৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ বা লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা ইন্টিমেট পার্টনার দারা যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। রাস্তাঘাট ও পাবলিক প্লেস নিরাপদ নয় জানিয়ে ৩৮৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ১৭৭ জন বলেছেন, তারা এসব স্থানে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অপরাধীরা অতীতে অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল জানিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় তরুণরা যৌনসহিংসতায় সম্পৃক্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্রান্সফার হয়ে যান বা অনেক বেশি কাজের চাপ থাকায় তারা তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেন না। ফলে বিচার অনেকটা পিছিয়ে যায়। ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভিকটিমরা যত দিন পর্যন্ত বিচার না পান তত দিন তারা একপ্রকার ট্রমার মধ্যে থাকেন।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।