× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুরগির দামে ফুলকপি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫৭ এএম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ১২:২২ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

বাজারে সবজি কিনবেন কী, দাম শুনে বলতে গেলে না দেখেই চলে যাচ্ছেন ক্রেতারা। পেঁপে, পটোল ও শসা ছাড়া বাকি সব ধরনের সবজির দামই সেঞ্চুরির আগে-পরে ওঠানামা করছে। ক্রেতারা বলছেন, বাজার থেকে চাহিদামতো সবজি কিনতে পারা দুঃসাধ্য এখন। সবজির দামের উত্তাপে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হতে হচ্ছে তাদের। মৌলভীবাজারে এখন এক কেজি ফুলকপি দিয়ে কেনা যাচ্ছে এক কেজি সোনালি মুরগি। সেখানে দুটি পণ্যই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দামে। 

দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অবশ্য ভোক্তা অধিদপ্তর বাজারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। অন্যদিকে ডিমের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে চার কোটি পিস ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, ঢাকা ছাড়াও লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বরগুনা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব জেলাতেই সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও এ দাম আকাশছোঁয়া।

রাজধানীর বাজার চিত্র

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের কেবি মুক্তিযোদ্ধা কাঁচাবাজারে অনেকক্ষণ অবস্থান করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্রেতাই দামাদামি করলেও সবজি না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ চাহিদার তুলনায় অর্ধেক পণ্য কিনছেন। 

কাঁচাবাজারের ফরিদ হোসেনের দোকানে এক ক্রেতা চিমটি কেটে লাউ পরীক্ষা করতে গেলে তিনি তাকে নিষেধ করেন। ফরিদ হোসেন বলেন, ‘৩০টা লাউ কিনেছি ২ হাজার ৫০০ টাকায়। মানে প্রতিটি লাউয়ের দাম পড়েছে ৮৪ টাকা। দোকান পর্যন্ত যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিটি লাউ বেচতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া কিনেছি ৬০ টাকা করে। বিক্রি করা উচিত ৭০-৭৫ টাকায়। কিন্তু ক্রেতাই পাচ্ছি না। বেচব কার কাছে?’ 

দোকানটিতে বিভিন্ন সবজির দাম জিজ্ঞেস করছিলেন বাজার করতে আসা গৃহিণী নাসিমা খাতুন। কয়েকটি সবজির দাম শুনে কোনোটি না কিনেই চলে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তার কাছে বাজারদর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো দোকান ঘুরলাম। দামে পোষাচ্ছে না। কোনো সবজিই কিনতে পারছি না। প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার মুরগি কিনেছি, এটি দিয়েই এখন চালাতে হবে।’ 

একই বাজারে কথা হয় আসাদুল ইসলাম নামে আরেক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি এক কেজি পুঁইশাক, এক টুকরা মিষ্টি কুমড়া ও কিছু কাঁচা মরিচ কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘বরবটির কেজি ১৪০, ঢেঁড়সের কেজি ১০০। পেঁপে ছাড়া কোনো সবজি কেনার সামর্থ্য নেই।’ 

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নাখালপাড়া রেললাইনে যাতায়াতের সময় কথা হয় রুমা আক্তার ও সালমা খাতুনের সঙ্গে। তাদের বাসা পশ্চিম নাখালপাড়া রেলগেটে। কিছুটা কম দামে সবজি কিনতে দেড় কিলোমিটার দূরে ফকিন্নির বাজারে গিয়েছিলেন দুজন। রুমা আক্তারকে বাজারদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ টাকা কমে সবজি পাবÑএ জন্য দেড় কিলোমিটার দূরে বাজার করতে গিয়েছিলাম। আমাদের বাসার পাশেই রেলওয়ে কো-অপারেটিভ মার্কেট। তবে এখানে দাম বেশি। এক কেজি বেগুন এখানে ১৭০-১৮০ টাকা। পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা। কিন্তু কিছু দূর হেঁটে গিয়ে বাজার করায় কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা কম পেয়েছি। সাড়ে চারশ টাকার সদাই করেছি। কিন্তু দেখেন, ব্যাগের নিচটাই ভরেনি।’ 

তার সঙ্গে থাকা সালমা খাতুন জানান, তিনি এক ডজন ডিম কিনেছেন ১৬৫ টাকায়। মহল্লায় যা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। দেড় কেজি তেলাপিয়া মাছ কিনেছেন সাড়ে তিনশ টাকায়। সালমা খাতুন বলেন, ‘মহল্লা ঘুরে ভ্যানগাড়িতে যারা সবজি বিক্রি করেন, তাদের বলা দাম আর বাজারে বিক্রি হওয়া সবজির দামে তেমন তফাৎ নেই।’ 

রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও রেলওয়ে কো-অপারেটিভ মার্কেট ও কুড়িল বিশ্বরোডের মুক্তিযোদ্ধা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও প্রকারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়।

প্রতি কেজি চিকন লম্বা বেগুন এখন ৮০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা, গোল বড় বেগুন ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা ও সাদা বেগুন ১৪০ টাকা হয়েছে। পটোল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০, ঢেঁড়স ১০০, বরবটি ১৪০, কাঁকরোল ১২০, চিচিঙ্গা ১০০, করল্লা ১০০, উচ্ছে ১২০ এবং ঝিঙা ৮০ টাকা। এর সবগুলোর দামই বেড়েছে ২০ টাকা করে। ৫ টাকা বেড়ে আলু এখন ৬০ টাকা, শিম ২৪০ থেকে ১২০ টাকা বেড়ে ৩৬০, পেঁপে ১০ টাকা বেড়ে ৪০, মুলা ৩০ টাকা বেড়ে ৮০ এবং টমেটো ৮০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া কচুরমুখী ৮০, প্রতিপিস ফুলকপি ৮০, বাঁধাকপি ৭০ এবং পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শিং মাছ ৫৫০, পাবদা ৪০০-৪৫০, তেলাপিয়া ২৪০, রুই মাছ ৩২০-৪০০, কই মাছ ২৫০ ও পাঙাশ ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার কারণে সবজির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও পানি জমে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন সবজি না আসা পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে আসা প্রায় অসম্ভব। 

মৌলভীবাজারে সোনালি মুরগি ও ফুলকপির দাম এক

প্রতিদিনের বাংলাদেশের মৌলভীবাজার প্রতিবেদক জানান, মৌলভীবাজারে সোনালি মুরগির দাম ও প্রতি পিস ফুলকপির দাম এক। দুটোই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। পেঁপে ছাড়া কোনো সবজি বাজারে ৬০ টাকার নিচে নেই। সবজির মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। গতকাল দেখা গেছে, প্রতি কেজি ফুলকপি ৩৫০-৩৭০, শিম ৩০০-৩২০, টমেটো ২৮০-৩০০, বাঁধাকপি ১০০-১২০, ঢেঁড়স ১০০-১২০, কাঁকরোল ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

মৌলভীবাজারের পশ্চিমবাজারে দুপুরে বাজার করতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে মাসের বেতন দিয়ে ১৫ দিনের বাজারও করতে পারব না। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। বিশেষ করে সবজির দামে হিসাব মেলাতে পারছি না।’

হিলির বাজারে আমদানি কম 

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক জানান, ছয় দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি বাজারে দ্বিগুণ বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম। উত্তরাঞ্চলে টানা বর্ষায় ক্ষেতে কৃষকের সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে কমেছে আমদানি। হিলিতে গত ছয় দিন আগে যে পটোলের দাম ছিল ২৫ টাকা কেজি, বর্তমান তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, ৩০ টাকার শসা ৬০, কচু আর ঢেঁড়সের অবস্থাও তাই। 

বন্দর বাজারে সবজি কিনতে আসা অজিত কুমার বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। বর্তমানে তেমন কোনো ইনকাম নেই। সবজি বাজারে এলেই মাথা ঘুরছে।’ 

লালমনিরহাটে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম 

লালমনিরহাট প্রতিবেদক জানান, উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটেও বেপরোয়া নিত্যপণ্যের বাজার। খাদ্য সংকট না থাকলেও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা যাচ্ছে না। এখানে ডিমের হালি ৫৫-৫৬ টাকা। চালের মধ্যে মিনিকেট ৬৫-৭০, আটাশ ৬০-৬৫, স্বর্ণা ৫৫-৬০, নাজিরশাইল ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫-৭ টাকা। 

রংপুরে ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম

রংপুর অফিস জানায়, রংপুরে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। চাল, ডাল, ডিম, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দামই এখানে ঊর্ধ্বমুখী। প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই, বলছেন সাধারণ মানুষ। রিকশাচালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম চড়া। ওসব কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। রিকশা চালিয়ে যা পাই, তা থেকে ভাত-ডাল-সবজি যে খাব, তাও আর পারছি না।’  

ঠাকুরগাঁওয়ে দিশাহারা সাধারণ মানুষ 

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক জানান, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার গৌবিন্দ নগর পাইকারি কাঁচাবাজার আড়তে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। শহরের কলেজপাড়া থেকে বাজার করতে এসেছিলেন মরিয়ম বেগম। তিনি বললেন, ‘বাজারে আসতে এখন ভয় লাগে। আপনি চিন্তা করেন, এক পোয়া কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা! একটা ছোট লাউ ৫০-৬০ টাকা! কী খেয়ে বাঁচব বলেন?’ 

রাজশাহীর বাজারেও অস্থিরতা

রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে সব ধরনের সবজির ও মাছের দাম বেড়েছে। কোনো সবজিই ৬০-৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কুমারপাড়া এলাকার মো. মনিরুল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সাধারণ জনগণ চায় বাজার সিন্ডিকেট বন্ধ হোক। কিন্তু মনে হচ্ছে, যে সরকারই আসুক তারা সাধারণ জনগণের চাহিদার দিকে নজর দেবে না। তারা পছন্দ করেন বড় বড় বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে।’ 

জয়পুরহাটে দাম কমাতে রাজি নন বিক্রেতারা

জয়পুরহাট প্রতিবেদক জানান, বাজারে এসে সবজির দোকানে গিয়ে সুন্দর ছাঁচি লাউ দেখে দাম জানতে চেয়েছিলেন ক্রেতা সদরের দোগাছী বিল্লা গ্রামের সাইদুল ইসলাম। বিক্রেতা ৬০ টাকা পিস দাম বললে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, ৪০ টাকায় দিতে। কিন্তু কিছুতেই দাম কমাননি বিক্রেতা। পরে ৬০ টাকা দিয়েই ছাঁচি লাউ কিনতে হয় সাইদুলকে। তিনি বলেন, বাজারে সব সবজির দামই বেশি। কী কিনতে কী কিনব, সেটা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু আবাদ কি আর কম হচ্ছে?’

একইভাবে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে জেলা শহরের নতুনহাট, পূর্ববাজারেও।

নওগাঁয় উত্তাপ সবজির বাজারে

নওগাঁ প্রতিবেদক জানান, নওগাঁয় শাক-সবজির উৎপাদন কমায় এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারের প্রতিটি পণ্যে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শেষ এবং রবি বা আগাম শীতকালীন মৌসুম শুরু হয়েছে। এ দুই কারণে সবজির উৎপাদন কম হচ্ছে। তা ছাড়া আবহাওয়াও বৈরী এখন। এ কারণে পাইকারি এবং খুচরা বাজারেও সব পণ্যের দাম বেড়েছে।

কিশোরগঞ্জে পাত থেকে ডিম উঠে গেছে 

মধ্যাঞ্চল প্রতিবেদক জানান, কিশোরগঞ্জে কোনোভাবেই কমছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সবজির দাম। গতকাল বাজারে গিয়ে কথা হয় আবদুল মালেক, রুস্তম আলীসহ কয়েকজন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সঙ্গে। তারা জানান, ডিমের অগ্নিমূল্যের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের পাত থেকে ডিম উঠে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১৬৫ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, ৩৬০ টাকা লিটারের সরিষার তেল ৩৮০ টাকা, ১৩৫ টাকার মসুর ডাল ১৫৫ টাকা। মাছের দামও বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

চট্টগ্রামে পেঁপের কেজি ৫০ টাকা

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, দুই সপ্তাহ আগে বাজারে কাঁচা পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হতো ৩০-৩৫ টাকায়। এখন এই সবচেয়ে কম দামি সবজিটিও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকায়। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজিই মিলছে না বাজারে। মাছ, মাংসের দামও চওড়া। ডিমের দাম বেড়ে প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। কাজীর দেউড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা মুন্না বলেন, ‘বন্যার কারণে অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাজারে এখন সবজির সরবরাহ কম।’

খুলনায় স্বস্তি নেই কোনো পণ্যের দামে 

খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। এ ছাড়া চাল, ডাল, আলু-পেঁয়াজ ও ডিমের দামও প্রতিদিন বাড়ছে। 

নগরীর ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারের দোকানি মানিক হাওলাদার জানান, গতকাল মঙ্গলবার প্রতি কেজি তরিতরকারির দাম গত সোমবারের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। ইনসাফ স্টোরের মালিক মো. আসিব জানান, ‘চাল, ডাল ও মসলার বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।’ গতকাল বাসমতী চাল ২৫ কেজির বস্তা ২২০০ থেকে ২৩৫০ টাকা, মিনিকেট চাল মানভেদে ১৬০০ থেকে ১৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি ৮৫, বিআর-২৮ চাল ৬২, মোটা চাল ৫৫-৬০, মসুরির ডাল ১০৫, দেশি মসুরির ডাল ১৩০ এবং মুগডাল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে প্রায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশের ৪৮টি জেলায় অধিদপ্তরের ৫৩টি টিম অভিযান চালিয়েছে। এতে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এসব অভিযানে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।

৪ কোটি ৫০ লাখ ডিম আমদানির অনুমতি

এদিকে ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাত প্রতিষ্ঠানকে শর্ত সাপেক্ষে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ শাখা থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমদানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেসার্স মীম এন্টারপ্রাইজকে ১ কোটি পিস, মেসার্স তাওসিন ট্রেডার্সকে ১ কোটি পিস, মের্সাস সুমন ট্রেডার্সকে ২০ লাখ পিস, আলিফ ট্রেডার্সকে ৩০ লাখ পিস, হিমালয়কে ১ কোটি পিস, মেসার্স প্রাইম কেয়ার বাংলাদেশকে ৫০ লাখ পিস এবং মেসার্স জামান ট্রেডার্সকে ৫০ লাখ পিস ডিম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা