বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৩১ পিএম
রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় আসিফ নজরুল সহ অন্যান্যরা। প্রবা ফটো
সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে বলে বিশিষ্টজনদের আশ্বস্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সকলের মতামত আমি শুনেছি। আমাদের এই সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা উচিত, সেদিকেই আমরা যাব। আলটিমেটলি এটি বাতিল হবে।’
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি নিজেও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা খেয়েছি। আপনাদের সকলের মতামত আমি শুনেছি। আমাদের সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা উচিত, সেদিকেই আমরা যাব। আলটিমেটলি এটি বাতিল হবে। পরবর্তীকালে যখন নতুন আইন হবে তখন সেটির মূল লক্ষ্য থাকবে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। সেখানে অবশ্যই নারী ও শিশুসহ স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে সমাজে তাদের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি রাখার ব্যবস্থা করব। আমরা এরকম সেমিনার অব্যাহত রাখব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিতে পারি, আমরা পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের কালাকানুন থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করব। আজকে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মধ্যদিয়ে বৈষম্যহীন, শোষণহীন, রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন নিয়ে যেই বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে, আমাদের আইন সংস্কারের মধ্যে তার প্রতিফলন ইনশাআল্লাহ আপনারা পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের ধারণা আছে যে একটি আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলেই সব মামলা উঠিয়ে নিতে পারে, কিন্তু এটা সত্যি না। সব মামলা ইচ্ছা করলেই উইথড্র (বাতিল) করা যায় না। মামলা উইথড্র করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে যে মামলার কনভিকশন (দণ্ডাদেশ) হয়ে যায়, সেখানে যে যে কনভিকটেড হয়েছে তার আবেদন ছাড়া মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। আদালতে যখন দোষী সাব্যস্ত হয়ে যায় তখন আপনি আমি যতই ভুয়া মনে করি না কেন মামলাকে চাইলেই সেটি আমরা উইথড্র করে দিতে পারব না।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন মানুষের কাছে অনাস্থার জায়গা থেকেই যাবে। তাই আইন সংশোধন বা নাম রাখাকেও সমর্থন করা যায় না। আইনের পরিবর্তন করতে হবে।’
দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন রাখা উচিত হবে না। এই নামটিও থাকা উচিত না, সম্পূর্ন আইন ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের নামও বাতিলের আহ্বান জানাই।’
মতবিনিময় সভায় আইন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বিশিষ্ট আইনজীবী, নাগরিক সমাজ, লেখক, গবেষকসহ বিশিষ্টজনেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তাদের অধিকাংশই আইন বাতিলের পক্ষে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।