প্রাথমিক তালিকা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৫ এএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:০৯ এএম
কোটা সংস্কার আন্দোলন। ছবি : সংগৃহীত
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও এর ধারাবাহিকতায় সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে ১৪২৩ জন নিহত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে ঐক্য মোর্চাটির স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য সচিব ও সমন্বয়ক তারেকুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন। এতে তিনি হতাহতের প্রাথমিক তালিকার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে সহযোগিতার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন।
তারেকুল ইসলাম জানান, ‘সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি উৎস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনে নিহত ও আহতের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে ১৪২৩ জন শহীদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন হবে। এর মধ্যে পুলিশ বা ফ্যাসিবাদের দোসর ছাত্রলীগ বা আন্দোলনে নিহত না-হওয়া কেউই থাকবেন না। ভেরিফিকেশন এবং ভেলিডেশনের কাজ চলমান রয়েছে।’
তিনি জানান, ‘এ সময় ২২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৮৭ জনের অঙ্গহানি হয়েছে। গুলি লেগে আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ৬৮৫ জন। ৯২ জনের দুই চোখেই গুলি লেগেছে, দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আহতদের তালিকা তৈরির কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আহতদের সংখ্যাও হালনাগাদ হবে।’
তারেকুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি আহতকে তাদের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ২ হাজার, সাজেদা ফাউন্ডেশন ৪৫০ জন রোগীর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে, ১৮০০ জনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
তারেকুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক তথ্য না থাকায় যোগাযোগের অভাবে আহত অনেকের কাছে পৌঁছতে দেরি হয়েছে। তবে যেখানেই খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, কারও আর্থিক সহায়তা দরকার, সেখানেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যবস্থা আগেই ফ্রি করা হয়েছে। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়, অনেকের পরিবার টিকতে পারছে না। খাওয়ার টাকা নেই। আমরা যখনই এমন খবর পাচ্ছি, সেখানেই বিভিন্ন ডোনার এজেন্সির মাধ্যমে সাহায্য পাঠানোর চেষ্টা করছি।’
হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, অঙ্গহানি হয়েছে, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, গুলি লেগেছেÑএমন ব্যক্তিদের কাছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশন আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেবে বলে জানিয়েছেন তারেকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আর্থিক সহায়তার এই বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক, চূড়ান্ত না। কারণ সরকার এবং ফাউন্ডেশন আলাদা। সরকার আহতদের সহায়তায় একটি নীতিমালা করছে, সেখানে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে ৮ লাখ টাকা, আহতদের ৪ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের বাইরে জুলাই ফাউন্ডেশন সব সময় চালু থাকবে। সেখান থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।’
এর আগে আন্দোলনে হতাহতদের তালিকা তৈরি করতে গত ১৫ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। এর প্রধান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব ও কমিটির প্রধান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির। কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিলে গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আন্দোলনের সময় সারা দেশে অন্তত ৬৩১ জন নিহত, ১৯ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। সেটাও ছিল প্রাথমিক তালিকা।