প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:০১ পিএম
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:১৪ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবে সেমিনারে বক্তারা। প্রবা ফটো
সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করলে তারা ড. ইউনূসকে সমর্থন করবে ও পাশে থাকবে। কিন্তু ড. ইউনূস দেশের স্বার্থ বিকিয়ে সেই কাজ করবেন না। আর সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে থাকবে না।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত 'নতুন বাংলাদেশ: বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. শেখ আকরাম আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার। এতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, মেজর (অবসর) আহমেদ ফেরদৌস।
রাষ্ট্রগঠনে সবার অংশগ্রহণ সম্পর্কে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘রাষ্ট্রকে গঠন করতে হলে সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে। জনগণের মতামত গ্রহণে ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন গঠন করতে হবে। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি কথা বলতে শুরু করবে। তাদের মতামত নিতে হবে। বাইরে থেকে কমিশন-টমিশন দিয়ে কোন কাজ হবে না।’
তিনি বলেন, জনগণকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র গঠন হতে পারে না। সব স্থানে জনগণের মতামত নিতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা আনসার বিদ্রোহ দেখলাম। এখন জনপ্রশাসনে বিদ্রোহ চলছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তাই রাষ্ট্রের সবস্তরে সংস্কার করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্র সংস্কারে প্রস্তাব দিতে হবে। অথচ তারা শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সংস্কার প্রস্তাব আসছে না।
তিনি আরও বলেন, এখনও অনেক পুলিশ কাজে যোগ দিচ্ছে না, তাদেরকে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে না? আমরা এখনও কেন ব্রিটিশি কলোনিয়াল রাষ্ট্র ব্যবস্থা রেখে দিয়েছি?
ফরহাদ মজহার বলেন, সমাজে সব সময় ফ্যাসিবাদ থাকে। বাঙালি জাতীয়তাবাদে যেমন আছে তেমনি মুসলিমদের মধ্যেও আছে। অনেকে শরিয়া পুলিশ সেজে নারীদের কোন পোশাক পড়তে হবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। মাজার ভাঙা হচ্ছে। নিজের কথা মানতে হবে সেটাই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। বর্তমান দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিচ্ছে না।
নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বিষয় নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার করতে চেয়েছি। আমরা ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও হাসিনার আইন চাই না। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, গণতন্ত্র মানে নির্বাচন না। দেশে সরকার নির্বাচনে গণতন্ত্র নেই। আগামীতে আমাদের গণপরিষদ ও সরকার নির্বাচনের জন্য দুটি নির্বাচন করার দরকার হবে। আমরা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে থাকবো।
দিল্লি ইতিমধ্যেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন দিল্লি এই ঘোষণা দিয়েছে? তারা কার সঙ্গে যুদ্ধ করবে। আমাদের সঙ্গে কেন যুদ্ধ।